সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা খাইরুলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা খাইরুলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি

সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা খাইরুলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি
ছবি সংগৃহীত।

২০২১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে র‍্যাব-১৫-এর তৎকালীন অধিনায়ক খাইরুল ইসলামের অমানবিক ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় কক্সবাজারের সাংবাদিক ইমাম খাইরকে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই রাতে ০১৮৪০৩৩৩৩৭৭ নম্বরধারী ব্যক্তি হুমকি দেওয়ার সময় নিজেকে সিও খাইরুলের আত্মীয় পরিচয় দেন।

এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমাম খাইর। যার নম্বর: ১৯৬৮/২৬। ২৯ জুলাই এন্ট্রি হওয়া জিডিতে তিনি নিজের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম খাইর কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছেন। তা ছাড়া পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমাম খাইর বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। মুক্ত সাংবাদিকতা ও উদার গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে সংবাদকর্মীকে হুমকি প্রদান প্রকারান্তরে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। হুমকিদাতা ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কক্সবাজারের ভূমিপুত্র সালাহউদ্দিন আহমদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এদিকে সাংবাদিক ইমাম খাইরের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বের অবস্থান থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসের পর হুমকি দেওয়াকে ন্যক্কারজনক এবং এতে অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজ। হুমকিদাতাসহ সম্পৃক্ত সবার তথ্য উদ্ধার করে আইনগত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।

তারা বলেন, “আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং আইনি পোশাক পরে খাইরুল অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করেছেন। ক্ষমতার দম্ভে তাঁর নেতৃত্বে সংঘটিত অপরাধ ফৌজদারি আইনে ক্ষমার অযোগ্য।”

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, “ইমাম খাইর কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত পরিচিত সাংবাদিক। খাইরুলের দায়িত্বকালে ইমাম খাইর এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীলসহ একদল সাংবাদিককে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতার নাম ব্যবহার করে ধারাবাহিক অপরাধকর্ম চালালেও খাইরুলের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস পাননি কেউ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সুবাদে ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনি পোশাক পরে নানা অপরাধকর্মে জড়িত বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটক করেছে সরকার। দেশে আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম।”

তারা আরও বলেন, “এই সময়ে সাহস করে একজন ভিকটিম হিসেবে নিজের ফেসবুকে লিখে অনুভূতি প্রকাশ করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে খাইরুলের আত্মীয় পরিচয়ে একজন সংবাদকর্মীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। এই ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জড়িত অপরাধীচক্রকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।”

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “খাইরুল ইসলাম র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়ক পদ ব্যবহার করে স্বৈরাচারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর সময়কালে সংঘটিত আইনবহির্ভূত সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। এই সময়েও সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।”

ইমাম খাইরকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আর খোকন, সাধারণ সম্পাদক আমানুল হক বাবুল; বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) কক্সবাজারের সভাপতি এম আর মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক আহসান সুমন; কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি স ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম হোবাইব সজীব; এবং সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজারের সভাপতি এম এ আজিজ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক বলরাম দাস অনুপমসহ কক্সবাজারের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজ।

তারা সাংবাদিক ইমাম খাইরকে হুমকি প্রদানকারী নম্বরধারী ব্যক্তিসহ নেপথ্যে থাকা অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।