সিএনজিচালকের হাতে অস্ত্র দিয়ে ‘ফটোশুট’: ঈদগাঁওর সেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

সিএনজিচালকের হাতে অস্ত্র দিয়ে ‘ফটোশুট’: ঈদগাঁওর সেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

সিএনজিচালকের হাতে অস্ত্র দিয়ে ‘ফটোশুট’: ঈদগাঁওর সেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
ছবি সংগৃহীত।

যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে অস্ত্র রাখা, পানি পানের কথা বলে চালককে দূরে সরানো এবং ফিরে আসতেই সেই সাজানো অস্ত্র হাতে দিয়ে ‘ফটোশুট’—সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও এমন ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম। একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর এই পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এখন প্রকাশ্যে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ অক্টোবর ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চালক জাফর আলমকে পানি কিনতে দোকানে পাঠিয়ে এক পুলিশ সদস্য গাড়ির পেছনে একটি ব্যাগ রেখে নেমে যান। জাফর ফিরতেই ওঁত পেতে থাকা এসআই বদিউল আলম, কনস্টেবল তানভীর ও মনির তাঁকে জাপ্টে ধরেন এবং জোর করে সেই অস্ত্র জাফরের হাতে ধরিয়ে ছবি তোলেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জাফরের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষিপ্ত ছিল একটি মহল। অভিযোগ রয়েছে, সেই বখাটেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে চালক জাফরকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়েছেন এসআই বদিউল। জাফরের স্ত্রী রাবেয়ার দাবি, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ এই সাজানো অভিযান পরিচালনা করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসআই বদিউলের বিরুদ্ধে এর আগেও টেকনাফসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত অবস্থায় চাঁদাবাজি, খুনের আসামিকে ছেড়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সহকর্মীদের কাছে তিনি ‘প্রদীপ-খ্যাত’ (সাবেক ওসি প্রদীপের অনুসারী) হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই বদিউল আলম মন্তব্য করতে রাজি হননি; বরং সংবাদটি বন্ধ করতে তদবিরকারক পাঠিয়েছেন। তবে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুখপাত্র) অলক বিশ্বাস বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে চালক জাফরকে ফাঁসানো হয়েছে। এসআই বদিউলের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ ছিল, কিন্তু প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে গেছেন। এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।