সোনার দাম বাড়ার পেছনে নতুন খেলোয়াড়!
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন

সোনার দাম বাড়ার পেছনে নতুন খেলোয়াড়!

সোনার দাম বাড়ার পেছনে নতুন খেলোয়াড়!
ছবি সংগৃহীত।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম অনেকদিন থেকেই চড়া। মাঝে কিছুটা ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে। তবে বর্তমানে সোনার দাম বাড়ার পেছনে কেবল প্রথাগত কারণগুলোই দায়ী নয়। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সোনার বাজারে এখন যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন এক খেলোয়াড়।

ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেওয়ার আগে বর্তমানের এই বাজারে দাম বাড়ার কারণ জানা প্রয়োজন। ল্যান্ডসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবার্গের (এলবিবিডব্লিউ) বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান এর অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক সোনা কেনা এবং কয়েন ও বারের উচ্চ চাহিদাও দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

বাজারে নতুন খেলোয়াড় ক্রিপ্টোকারেন্সি
সোনার বাজারে এখন এক সম্পূর্ণ নতুন শ্রেণির ক্রেতার আগমন ঘটেছে। ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গারের মতে, এই নতুন পক্ষটি হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্টরা এখন তাদের ডিজিটাল সম্পদ বহুমুখীকরণ বা বৈচিত্র্যময় করছেন।

ঝুঁকি এড়াতে তারা এখন ক্রিপ্টো সম্পদের পাশাপাশি সোনা কিনছেন। এটি সোনার বাজারে চাহিদার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নতুন উৎস হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা যদি ভবিষ্যতেও বজায় থাকে, তবে তা সোনার দামকে আরও ওপরের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

ক্রেতাদের ধরন ও বাজারের শক্তি
ডয়েচে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুসো ক্রেতাদের দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। একটি হলো অনমনীয় বা স্থায়ী ক্রেতা এবং অন্যটি হলো পরিবর্তনশীল ক্রেতা। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো শক্তিশালী ও স্থায়ী ক্রেতারা বাজার থেকে সাধারণ ক্রেতাদের প্রায় সরিয়ে দিচ্ছে।

সাধারণত গহনা ক্রেতাদের মতো দাম সংবেদনশীল ক্রেতারা এখন বাজার থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই ধারাবাহিক ও বড় চাহিদাই ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোনার দাম বাড়ার প্রধান কারণ ছিল।

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপদ আশ্রয়
ডিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক থমাস কুল্প জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দাম বাড়ার অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবসময় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার আলাদা আবেদন রয়েছে।

একদিকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম, অন্যদিকে স্বাধীনতার গ্যারান্টি বা নির্ভরতা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে সোনার এই আকাশচুম্বী চাহিদা তৈরি হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দামের গ্রাফ কেবলই ওপরের দিকে ছুটছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি