স্লুইসগেটের ইজারা বাতিল, জাল বসালে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন

স্লুইসগেটের ইজারা বাতিল, জাল বসালে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্লুইসগেটের ইজারা বাতিল, জাল বসালে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের পেকুয়াসহ উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সব স্লুইসগেটের ইজারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি স্লুইসগেট দেখভালের নামে সেখানে জাল বসিয়ে মাছ ধরছেন। এতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ কারণে সব স্লুইসগেটের ইজারা বাতিল করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে স্লুইসগেটের দায়িত্ব থাকবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের (মেম্বার) ওপর। পানি বের করার সময় পানি বের করা হবে, আর ঢোকানোর সময় পানি ঢোকানো হবে। কোনো অবস্থাতেই স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথায় কোথায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, কোথায় সংস্কার প্রয়োজন এবং কোথায় নতুন বাঁধ নির্মাণ করতে হবে—এসব চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা অনুযায়ী দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়; বরং উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা। এজন্য স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণায় বন্যাকবলিত পেকুয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে স্লুইসগেটের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।