হাটহাজারীতে এক মাসে ১০৫ আসামী গ্রেফতার উদ্ধার অস্ত্র, মাদক ও নিখোঁজ ব্যক্তি

হাটহাজারী মডেল থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মনজুর কাদের ভূঁইয়া যোগদানের পর অক্টোবর মাস জুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১০৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গুলি, কার্তুজ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর মডেল থানার ওসি কাওসারকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়ার পর মনজুর কাদের ভূঁইয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশের অবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ওসির নেতৃত্বে অক্টোবর মাসেই এই ধারাবাহিক সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
রোববার (২ নভেম্বর) সকালে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ১০৫ আসামির মধ্যে রয়েছে:
নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার: ৪৫ জন। ওয়ারেন্টভুক্ত (জিআর ও সিআর): ২৭ জন। সাজাপ্রাপ্ত (জিআর ও সিআর): ১৪ জন। অন্যান্য ধারায় (জুয়া, ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ও ৫৪, পুলিশ আইন): ১৯ জন। গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার ও মামলা:
অক্টোবর মাসের অভিযানে থানা পুলিশ যেসব সামগ্রী জব্দ ও উদ্ধার করেছে:
৬৫০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ১৩০ গ্রাম গাঁজা, দুটি গাঁজার গাছ এবং ১৭৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
অস্ত্র: মদুনাঘাট এলাকায় হাকিম হত্যায় ব্যবহৃত একটি শর্টগানের একটি কার্তুজ ও একটি পিস্তলের গুলি।
অন্যান্য: চুরি হওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং ১৩টি মোবাইল ফোন।
নিখোঁজ উদ্ধার: নিখোঁজ হওয়া ৯ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকৃত মালিকের কাছে ১৩টি মোবাইল ফোনও হস্তান্তর করা হয়।
চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামিরা গ্রেপ্তার:
আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র তানভির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ৬ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত তিনজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে হাকিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
১২নং চিকনদণ্ডী ইউপির ফতেয়াবাদ চৌধুরীহাট বাজারস্থ ইডেন সিটি গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় নিহত মো. তানিম হোসেন ও অপি দাশের মামলার জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এই টানা অভিযানে এলাকার সচেতন মহল আশার আলো দেখছেন। তবে তাঁরা অপরাধ দমনে আরও টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি মহাসড়ক ও পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্তবর্তী সড়ক এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, "মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্সের নীতিতে কাজ করছি। পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় এই সফলতা এসেছে। হাটহাজারী উপজেলাতে কোনো অপরাধী গোষ্ঠীকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যতদিন এ থানায় আছি সততার সঙ্গে জনগণের মঙ্গল এবং হাটহাজারীকে নিরাপদ উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত করতে কাজ করে যাবো।"
প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওসি হিসেবে মনজুর কাদের ভূঁইয়া যোগদানের পর ৩০ তারিখ পর্যন্ত ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং মাদক, চোলাই সিএনজি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছিলেন।












