৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন

৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ

৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার নারায়ণহাটে হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি আজকের নয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫৫ বছর ধরে এলাকার মানুষ একটি সেতুর আশায় প্রহর গুনছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, কিন্তু নারায়ণহাটের হালদা নদীর দুই পাড়ের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের ভাগ্যে এখনো জোটেনি একটি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন টোল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো কিংবা নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।


নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদী নারায়ণহাট ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর দক্ষিণ পাশে রয়েছে জমিদারপাড়া, সুন্দরপুর, হাপানিয়া, রাজারটিলা, আনিচারখিল, খালাছিপাড়া, সন্দ্বীপপাড়া, পিলখানা, সুন্দর শাহ ছিলাইসহ একাধিক গ্রাম। অন্যদিকে উত্তর পাশে রয়েছে নারায়ণহাট বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, বাসস্টেশন, নারায়ণহাট ডিগ্রি কলেজ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা মাদ্রাসা, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


এছাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশেই অবস্থিত নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নারায়ণহাট দাখিল মাদ্রাসা, হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুনাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এ গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণহাট ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস এবং হযরত শাহ সুন্দর (রহ.)-এর ঐতিহাসিক আস্তানা শরীফ। এসব শিক্ষা, ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত করতে হয়।


দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোই ছিল দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটি ব্যবহার করতে প্রতিদিন টোলও দিতে হয় স্থানীয়দের। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটির একটি অংশ একাধিক বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ও নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।


স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনে এ পথে যাতায়াত করেন। কিন্তু একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কিংবা মৃত ব্যক্তির মরদেহ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মালবাহী যানবাহন সরাসরি গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নৌকার স্বল্পতা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন পথ চলতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদী পার হওয়ার জন্য। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুলাই থেকে একটি পক্ষের বাধার কারণে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিতভাবে যেতে পারছেন না চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ। ফলে জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের অনেক সমস্যারও কার্যকর সমাধান হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব যদি নিয়মিত পরিষদে থাকতে পারতেন, তাহলে হয়তো এতদিনে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যারই সুরাহা বের হয়ে আসত। কিন্তু আদালতের রায় পাওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তিনি অফিস করতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তির ওপর।”


এলাকাবাসীর দাবি, নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর ওপর প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হলে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।


এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, গত সরকারের আমলে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব ও প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল সেটি কার্যকর না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় একটি বেইলি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনাও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। তবে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, সাময়িক সমাধান নয়; বরং একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতুই পারে এ অঞ্চলের কয়েক দশকের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে।


চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ বলেন, নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। তিনি জানান, সেতুটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও তদ্বির করেছেন। তিনি বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাই জনস্বার্থে দ্রুত সেতুটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”


২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতুর অভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর দাবি, নারায়ণহাটের হালদা নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে হাজারো মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
 




হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: এক মাসের ছুটি নিয়ে স্টোরকিপারের দুই মাসেও মেলেনি দেখা, যুক্ত ধর্মীয় সংগঠনে; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকি

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: এক মাসের ছুটি নিয়ে স্টোরকিপারের দুই মাসেও মেলেনি দেখা, যুক্ত ধর্মীয় সংগঠনে; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকি
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার দুর্জয় দেওয়ানজী চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিজ কর্মস্থলে ফেরেননি। এমনকি গত ৯ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাটহাজারীতে আগমন করলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার নামে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমানোর তথ্যও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। মূলত চিকিৎসা নয়, একটি ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রায়ই দেশের বাইরে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার অজুহাতে ছুটি দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হাটহাজারীতে কর্মরত অবস্থায় ঊর্ধ্বতনদের বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস করেন না কেউ।

জানা গেছে, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এক মাসের ছুটিতে বহির্বাংলাদেশে গমন করেন দুর্জয়। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। নিয়ম অনুযায়ী ছুটির পূর্বে কাউকে যথাযথ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা-ও ঠিকভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্জয় চলতি বছরের শুরু থেকেই কর্মস্থলে অনিয়মিত। জানুয়ারি থেকে প্রায় চার মাস অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জুনে পুনরায় বহির্বাংলাদেশে গমন করেন। চিকিৎসার জন্য ছুটির কারণ উল্লেখ করলেও তিনি নিজে নাকি পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্টোরকিপারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী শৈবাল সেন তার অসুস্থতার কথা জানালেও, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার জানান যে তার বাবা অসুস্থ। মূল সত্য জানতে ছুটির আবেদনের কাগজপত্র ও পাসপোর্টের কপি দেখতে চাইলে প্রতিবেদককে এসব না চাওয়ার অনুরোধ করেন ওই কর্মকর্তা। ফলে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।

এদিকে জানা গেছে, একজন সরকারি কর্মচারী কর্মরত থাকা অবস্থায় 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯' এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক বা নির্দিষ্ট সংগঠনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিধিমালার ২৫(১) উপবিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, দেশে বা বিদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা অর্থায়ন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরা এমন কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হতে পারবেন না, যা সমাজে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায় অথবা জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরকারি চাকরির প্রধান শর্ত হলো প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাই কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোনো সংগঠনের পরিচয় বহন করা যাবে না যা এই নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮' অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুতি বা অন্যান্য শাস্তি হতে পারে।

এমন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দুর্জয় দেওয়ানজীর বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালেও বিদেশে গমনপূর্বক ওই সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। সংগঠনের কার্যক্রমের একাধিক ছবি ও সনদ এর প্রমাণ বহন করে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্যান্য বাহন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িতেই তিনি যাতায়াত করেন।

এদিকে তার অনুপস্থিতিতে স্টোরের ওষুধ বিতরণ ও ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা করা নিয়ে চিকিৎসকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্টোরকিপারের ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা করার জন্য একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতনদের অবগত করা হলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। ফলে প্রশাসনিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মেয়াদোত্তীর্ণের কারণে ওষুধসংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, একজন স্টোরকিপারের ছুটি ও ওষুধের যাবতীয় বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের অবগত থাকার কথা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহ বলেন, দুর্জয় কখন ছুটিতে গেছেন এবং কেন গেছেন সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার মুঠোফোনে স্টোরকিপারের এক মাসের ছুটি এবং পরবর্তীতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে সাত দিন করে মোট ১৪ দিন ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও, এর দুদিন পর নিজ কার্যালয়ে ছুটির মেয়াদ এখনো আছে বলে প্রতিবেদককে জানান। তবে তাকে দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। মুঠোফোনে প্রদত্ত বক্তব্যের সাথে কার্যালয়ের বক্তব্যের অমিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং স্টোর তদারকিতে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না দেওয়ার প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন ওই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ছুটির সত্যতা স্বীকার করলেও মূলত ছুটির মেয়াদ কতদিন তা জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে বিভাগীয় পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি জানান, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন।




রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুটি সাজা পরোয়ানাসহ পৃথক মামলায় জারি হওয়া মোট নয়টি পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রমা সেন্টারের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানি পূর্ব রাউজান এলাকার আজিজুল হক কোম্পানির বাড়ির মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।

রাউজান থানা-পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন পিপিএম এবং রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসআই (নিরস্ত্র) মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনামুল হক বাচার বিরুদ্ধে দায়রা-৪৩৭/২৩, সিআর-৮৪০/২২ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা এবং দায়রা-৯০১/২০২৪, সিআর-১৪০/২০২৩ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া জিআর-১০৮/২৫, সিআর-৫৭৬/২৫, দায়রা-১৯১৭/২২, সিআর-৬৮৪/২১, সিআর-১৫০/২০২৪, সিআর-৫৩০/২০২৪, সিআর-১৮৯/২০২৩ ও সিআর-১৮৮/২০২৩ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পরোয়ানা জারির পর থেকে এনামুল হক বাচা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক মো. তানভীর।




রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে মনি দাশগুপ্ত (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পরপরই উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি সুনীল মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তবে মনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি আত্মহত্যা বলে গুঞ্জন উঠলেও পরিবারের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে।

নিহত মনি দাশগুপ্ত একই বাড়ির মৃদুল দাশগুপ্তের মেয়ে। সে গশ্চি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুন নবী জানান, মনি এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে গণিতে উত্তীর্ণ হলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়। তিনি বলেন, ‘প্রথমে শুনেছি ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। পরে আবার কারও কাছে শুনলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা আমি জানি না।’

স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফল প্রকাশের সময় মনির মা রেবা দাশগুপ্ত বাড়ির বাইরে রান্নার জন্য পাতা কুড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় মনি বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। এক নিকটাত্মীয় এসে তাকে পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার কথা জানান। এরপর মনি একটি কক্ষে একা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তার মা বাড়িতে ফিরে তাকে শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি চিৎকার দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দ্রুত তার সৎকার সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের মা রেবা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমি পাতা কুড়াতে গিয়েছিলাম। ঘরে এসে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পথেরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশের দশ মিনিটের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার শুধু দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই বলে এমন হবে, তা আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। আগে জানলে আমি বাইরে যেতাম না।’

তবে তিনি মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তাঁর দাবি, ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ শুনে তাঁর মেয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। এর বাইরে তিনি কিছুই জানেন না এবং বলতেও পারবেন না।

এদিকে মনি আত্মহত্যা করেছে—এমন কোনো খবর সোমবার পুলিশ পায়নি বলে জানিয়েছেন নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আত্মহত্যা করেছে এমন কোনো সংবাদ গতকাল আসেনি। তবে আজ (মঙ্গলবার) শুনেছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।