৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বান্দরবানের জেলা পরিষদ সদস্য লাল জারলম বমের বিরুদ্ধে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বান্দরবানের জেলা পরিষদ সদস্য লাল জারলম বমের বিরুদ্ধে

৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বান্দরবানের জেলা পরিষদ সদস্য লাল জারলম বমের বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলোচিত সংগঠক ও জেলা পরিষদের সদস্য লাল জারলম বমের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের কোটি টাকার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ।
শিক্ষক–সুপারভাইজারদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অফিস সরঞ্জামের বরাদ্দ আত্মসাৎসহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলায়।
সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে ২০১৮ সালে চালু করা হয়।
প্রকল্পটির আওতায় বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় — প্রতি উপজেলায় ৩ কোটি টাকা করে।

স্থানীয় এনজিও কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্ট ফোরাম (CAF) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়, যার নির্বাহী পরিচালক ছিলেন লাল জারলম বম, বর্তমানে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য।

প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি উপজেলায় কয়েকশ’ শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়, যাদের মাধ্যমে নিরক্ষর জনগণকে স্বাক্ষরতা শিক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে আলীকদমে ৬০০ শিক্ষক ও ১৩ জন সুপারভাইজার এবং ২০১৮ সালে রুমায় ১,০২০ জন শিক্ষক ও ১৫ জন সুপারভাইজার ও থানচিতে ১,০০০ শিক্ষক ও ১৫ জন সুপারভাইজারের জন্য ছয় মাসের ভাতা বরাদ্দ ছিল।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রুমা ও থানচি উপজেলায় মাত্র দেড় মাসের ভাতা প্রদান করে বাকি অর্থ ভুয়া স্বাক্ষর, জাল কাগজপত্র ও কল্পিত তালিকার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

সূত্রমতে, এই দুই উপজেলার ভাতা বাবদ মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকাই শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের না দিয়েই আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া অফিস সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ২৮ লাখ টাকাও বিতরণ করা হয়নি — বরং সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কার্যত কোনো ফল হয়নি।
তাদের অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী বীর বাহাদুর, তার সহধর্মিণী মেহ্লা প্রু এবং  সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ প্রভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

তাদের প্রভাবের কারণে প্রশাসনও নিরব ভূমিকা পালন করে, এমনকি মামলা করার প্রস্তুতি নিলেও মন্ত্রী পরিবারের হস্তক্ষেপে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

তদন্ত শুরু হলেই ওপর মহল থেকে ফোন আসে। যারা তথ্য দিত, তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হতো। এতে করে প্রকৃত অপরাধীরা এখনো নিরাপদে।
বান্দরবান জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মো. মঞ্জুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন — রুমা, থানচি ও আলীকদমে মোট ৯ কোটি টাকার বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় এনজিও কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্ট ফোরাম (CAF), যার নির্বাহী পরিচালক ছিলেন লালজারলম বম। রুমা ও থানচির শিক্ষকদের ছয় মাসের বেতনের মধ্যে মাত্র দেড় মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকাগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
তদন্তের সময় লালজারলম বম কখনো উপস্থিত হননি। বরং তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত করেন। এমনকি পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF)–এর মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

আরো উল্লেখ্য,সরকারি প্রকল্প ছাড়াও Presbyterian Church in Bangladesh–এর বান্দরবান লোকাল চার্চের নামে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬,৩৯১ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত লাখ টাকা) ইউসিবি ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট হিসাবে লাল জারলম বমমের নামে স্থানান্তর হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থও প্রকৃত খাতে ব্যবহৃত না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন,
বিদেশি অনুদানের টাকাগুলোও ঠিক যেভাবে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেভাবেই প্রভাবশালী মহল ভোগ করছে। তদন্ত হলে আরও বড় দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে লালজারলম বমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এছাড়া তার কার্যালয় থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলায় এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে,
যে ব্যক্তি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে শিক্ষা প্রকল্প ধ্বংস করেছে, তাকে জেলা পরিষদের সদস্য করা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।

আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন,
যাদের নামে বরাদ্দ ছিল, তারা অনেকেই ভাতা পাননি। অথচ রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, সব ভাতা প্রদান সম্পন্ন! এটি পরিকল্পিত প্রতারণা।

বান্দরবানের সচেতন নাগরিক সমাজ এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক তদন্ত ও লালজারলম বমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, যদি এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু দুর্নীতি নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।