‎রামুর কচ্ছপিয়ার দোছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন

‎রামুর কচ্ছপিয়ার দোছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

‎রামুর কচ্ছপিয়ার দোছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি
ছবি সংগৃহীত।

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দোছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ির অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী-খালপাড়ের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর প্রায় ১০০ একর কৃষি প্রকল্প।
‎স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের পানি দোছড়ি খালে নেমে আসায় খালের পানির প্রবাহ ও স্রোত কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে খালের দুই তীর দ্রুত ভাঙতে শুরু করে। এ বছর নতুন এলাকা খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
‎রামু উপজেলা কৃষক দল নেতা রেজাউল করিম টিপু ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ফয়েজ উল্লাহ বলেন,“দোছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙনে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

‎কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছালেহ আহমদ বলেন, “খালের ভাঙন ইতোমধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি বিএডিসির প্রায় ১শ একরের কৃষি প্রকল্পও হুমকির মুখে রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
‎স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই দোছড়ি খালের ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।