হঠাৎ অস্থির চালের বাজার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

হঠাৎ অস্থির চালের বাজার

হঠাৎ অস্থির চালের বাজার
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যপণ্য চাল। দেশের আপামর মানুষ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে খাদ্যটি অবিচ্ছেদ্যভাবে গ্রহণ করে, তা হলো ভাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বাজার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সেই মৌলিক চাহিদাটিই আজ হুমকির মুখে পড়েছে। ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে নতুন চাল বাজারে আসে এবং তখন চালের দাম কিছুটা কমে যায়—এটাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু এবার সে ধারার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার নতুন চাল বাজারে আসার পরও এই মূল্যবৃদ্ধি বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ত্রুটি এবং ব্যবসায়ী কারসাজিরই প্রমাণ। চালের এমন দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ এবং শ্রমজীবী শ্রেণি। প্রতিদিনের ন্যূনতম খাবারের তালিকায়ও সংকট দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। একজন রিকশাচালক জলিল মিয়া বলেন, “আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত মাছ-মাংস খেতে পারি না। চারটা ডাল-ভাত হলেই হয়। এখন সেই ভাতেই হাত দিল তারা। আমরা কি খেয়ে বাঁচবো বলেন?” এই কথাগুলোর মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে একজন সাধারণ নাগরিকের অসহায়ত্ব ও ক্ষোভ। চালের বাজারে মূল সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে একটি কথাই—সিন্ডিকেট। চালকল মালিক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও কিছু কর্পোরেট মিল মালিকদের এক ধরনের অপারদর্শী সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাবাড়ীর চাল ব্যবসায়ী রহিম হাওলাদার বলেন, “মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার। তারা যেভাবে দাম বাড়ায়, আমাদের সে দামে কিনতে হয়। বাধ্য হয়ে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করি।” এমন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, খুচরা বিক্রেতারাও অনেক ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি। রাজধানীর শনিরআখড়ার বাজারে এখন খুচরা দরে মোটা চাল (২৮ চাল) বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে। জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৮০ টাকা, মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮৪ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৬ টাকা কেজি। অথচ কিছুদিন আগেই সরু চালের দাম ৭৫ টাকায় নেমে এসেছিল। মিলাররা দাবি করছেন, তারা বেশি দামে ধান কিনছেন বলে চালের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল সমস্যা হচ্ছে বাজারে সরকারের কার্যকর তদারকির অভাব এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। খুচরা ও পাইকারি দোকানে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল উৎস—মিল ও মোকামে কোনো কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা মজুত নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ধান ও চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি করছেন। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে নেমেছে চরম অস্থিরতা, যার বড় অংশের ভার এসে পড়েছে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়ে যাওয়া নজিরবিহীন। মোকাম এবং আড়তগুলোতে চাল মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পর মিলার ও কর্পোরেটরা অজুহাত খাড়া করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার মাঝে মাঝে খুচরা ও পাইকারি বাজারে তদারকি করে ঠিকই, কিন্তু মোকাম বা মিল পর্যায়ে কোনো নজরদারি করে না। ফলে সিন্ডিকেট কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো বাজার।” ভোক্তাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারের খাদ্য বিভাগ বা জেলা প্রশাসন চালের বাজার তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের দায়িত্ব শুধুই চাল সংগ্রহ করা, বাজার মনিটরিং নয়। এতে করে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতায় কোনো লাগাম টানা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা আগের সরকারের সময়ও চালের সিন্ডিকেট নিয়ে প্রতিযোগিতা কমিশনে অভিযোগ করেছিলাম, মামলাও হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার চাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু করছে না। প্রতিযোগিতা কমিশনও নিষ্ক্রিয়। একটি গোষ্ঠী চালের বাজারের ৩২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে—তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।” এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে জনসচেতনতা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। ‘ভাতের পাতে স্বস্তি ফেরাও’ স্লোগানে চট্টগ্রামে নাগরিক সমাজ, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), ক্যাব চট্টগ্রাম ও আইএসডিই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করেছে। তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যদিও টিসিবি ও খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বল্পদামে চাল বিক্রির উদ্যোগ আছে, তবে তা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। অধিকাংশ ভোক্তা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখোমুখি। যে দেশে কৃষক প্রতি বছর লাখ লাখ টন ধান ফলায়, সেই দেশে চালের জন্য সাধারণ মানুষকে হাহাকার করতে হবে—এমন চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাজারে যদি চালের সংকট না থাকে, তাহলে দাম কেন বাড়ছে—এই প্রশ্নের উত্তর চাইছে জনগণ। বাস্তবতা হচ্ছে, চালের দাম এখন আর ফসল ফলনের ওপর নির্ভর করে না, বরং নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী। খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকার পরও বাজারে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। এর মানে হচ্ছে, সরকারের ভিতরে কিংবা বাইরের কোনো শক্তি এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছে। এই অবস্থায় বাজার ব্যবস্থাপনায় যে সংস্কার প্রয়োজন, তা শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়—রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অপরিহার্য। সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সরকারকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় স্তর থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং, মজুতকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মিল পর্যায়ে নজরদারি এবং বাজার ব্যবস্থার ডিজিটালায়ন ছাড়া এই সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। অন্যথায়, চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে, যা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের জন্য এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়।

 




সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
ছবি সংগৃহীত।


সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)


রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।




বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ

বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবান। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন সংকটময় সময়ে যখন অনেকেই নীরব, তখন কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে নয়; বরং নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবানের একদল তরুণ।
মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ক্যাচিংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ৯০টিরও বেশি দুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারের হাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ দেখে কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা ত্রাণসামগ্রী কিনে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
তাদের ভাষ্য, “এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। আমরা জানি, এই সহায়তা সব মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবুও যারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন, তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, দুর্যোগের সময় মানবতার কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তাহলে বান্দরবানের এই সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।”
তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো সংগঠন নই এবং কারও সহযোগিতার অপেক্ষায়ও ছিলাম না। নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এটি আমাদের কার্যক্রমের শুরু মাত্র। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উদ্যোক্তারা বান্দরবানের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সামর্থ্যবান সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও সবাই এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।




৪৫ দিনের বাকিতে দেওয়া চেক ২২ মাসেও ক্যাশ হয়নি

৪৫ দিনের বাকিতে দেওয়া চেক ২২ মাসেও ক্যাশ হয়নি
ছবি সংগৃহীত।

৪৫ দিনের বাকিতে দেওয়া চেক ২২ মাসেও ক্যাশ হয়নি। এমনই প্রতারণা করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ব্যবসায়ী এমএ মুছার সঙ্গে। ২০২৪ সালের মে, জুন ও জুলাইয়ে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৯ টাকার ছয়টি চেক দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মুছাকে। সব চেকই হয় ডিসঅনার। 
জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফের ডাংগারপাড়া ও নোয়াপাড়ায় বাস্তবায়নাধীন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করতে MAE @ DECL’এর সঙ্গে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রকি ব্রিক ফিল্ডের স্বত্বাধিকারী এমএ মুছা। 
সাব কন্ট্রাক্টর MAE @ DECL–এর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান(জুয়েল)-এনআইডি নম্বর-৪৮২১১০৭৬৯০২৩৬, পার্টনার রফিকুল ইসলাম-এনআইডি নম্বর-৫৫৪২৪৫৬৮৬৭, পার্টনার ফারহানা হক এবং ডিরেক্টর প্রকিউরমেন্ট আবু সাইদ। 
এই কাজের মূল ঠিকাদার তানজীর আলম সিদ্দিকী, অথরাইজড পার্টনার (ডরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ) জেভি এমএই এন্ড ডিইসিএল, জেভি। ঠিকানা- ২১-২৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ইউলসো টাওয়ার, ঢাকা-১২১২। 
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান- MAE @ DECL–এর পার্টনার ফারহানা হক ডরিন গ্রুপের সিইও সাব্বির খানের স্ত্রী।   
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এমএ মুছা জানান- রাজধানী ঢাকার গুলশানের ডরিন গ্রুপের সিইও সাব্বির খান টাকা পরিশোধে গত ২২ মাসে শতাধিক তারিখ দিয়েছেন। তিনি একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে টাকা পরিশোধের তারিখ দিলেও তা রক্ষা করেননি। সব শেষ লিখিত অঙ্গীকার ছিল চলতি সালের জানুয়ারির মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ করার। কিন্ত তা তিনি করেননি।

জানা গেছে, MAE @ DECL–এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায়ী এম এ মুছাকে ২০২৪ সালের ৫ মে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০, ২০ মে ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬১, ১৪ জুন ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩, ২৩ জুলাই ৪ লাখ ০৪ হাজার ৯৮৫ টাকার চেক দেওয়া হয়। এছাড়া ২ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ টাকার চেক দেওয়া হয়। সব মিলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৯ টাকার চেক পান ব্যবসায়ী মুছা। ৪৫ দিনের বাকিতে দেওয়া এ সব চেক ডিসঅনার হয়।

চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে- ‘প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষের পাওনা টাকা সময়মতো পরিশোধ বা প্রদান করিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করিতে না চান, তা হলে দ্বিতীয় পক্ষ প্রথম পক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারিবে।’