অধিকার আদায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ চবি শিক্ষার্থীদের
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

অধিকার আদায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ চবি শিক্ষার্থীদের

অধিকার আদায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ চবি শিক্ষার্থীদের
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম   বিশ্ববিদ্যালয়ে ( চবি )  নানাবিধ   সমস্যার   সংকট   নিরসনে   এবার   বিক্ষোভ   সমাবেশ   ও   মানববন্ধন   করেছে   শিক্ষার্থীরা।   এসময়   শিক্ষার্থীরা   শাটল   ট্রেনের   শিডিউল   বিপর্যয় ,  আবাসন   সংকট ,  নিম্নমানের   খাবার   ও   দীর্ঘদিন   ধরে   ছাত্র   সংসদ   নির্বাচন   না   হওয়ার   বিষয়গুলো   তুলে   ধরেন   এবং   প্রশাসনের   নীরবতায়   ক্ষোভ   প্রকাশ   করেন।   সমস্যার   সমাধান   না   করা   হলে   কঠোর   আন্দোলনের   হুঁশিয়ারী   দেন   শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবা ( ৮   জুলাই )  দুপুর   ১২   টায়   বিশ্ববিদ্যালয়ের   শহীদ   মিনার   চত্বরে   এই   মানবন্ধন   ও   বিক্ষোভ   সমাবেশ   করে।   সমাবেশে   বিভিন্ন   বিভাগের   শিক্ষার্থীরা   অংশগ্রহণ   করে।এ   সময়ে   শিক্ষার্থীরা “ জেগেছে   রে   জেগেছে ,  ছাত্র   সমাজ   জেগেছে ! ”“ তুমি   কে   আমি   কে ?  অবহেলিত ,  অবহেলিত !” “ আবাসন   আমার   অধিকার ,  রুখে   দেওয়া   সাধ্য   কার !” “ চাকসু   আমার   অধিকার ,  রুখে   দেওয়া   সাধ্য   কার !”  ইত্যাদি   স্লোগানে   মুখর   করে   তোলে   বিক্ষোভ   সমাবেশ   ।  

শিক্ষার্থীরা   বলেন ,  প্রশাসনের   উচিত ‘ মেধা ’   ভিত্তিক   আবাসনের   পাশাপাশি   গরীব   ও   অসচ্ছল   শিক্ষার্থীদের   অধিকার   রক্ষায়   ব্যবস্থা   নেওয়া।   শাটল   ট্রেনের   সময়সূচি   বৃদ্ধি   ও   সুষ্ঠু   পরিচালনা ,  এবং   ভর্তুকিসহ   উন্নত   মানের   খাবার   নিশ্চিত   না   করা   পর্যন্ত   করা   তারা   আন্দোলন   চালিয়ে   যাওয়ার   ঘোষণা   দেন।   প্রয়োজনে   আরো   কঠোর   আন্দোলনের   হুশিয়ারি   দেন।  

শিক্ষার্থীদের   প্রধান   দাবিসমূহ   হলো :  শাটল   ট্রেনের   শিডিউল   বিপর্যয়   ও   অব্যবস্থাপনার   নিরসন।শতভাগ   আবাসন   ব্যবস্থা   নিশ্চিতকরণ   অথবা   বাসস্থান   ভাতা   প্রদান।   ক্যাম্পাসে   খাবারের   মান   উন্নতকরণ   ও   সবার   জন্য   সহজলভ্যতা   নিশ্চিত   করা।   দ্রুত   সময়ের   মধ্যে   ছাত্র   সংসদ ( চাকসু )  নির্বাচন   আয়োজন।

চারুকলা   বিভাগের   শিক্ষার্থী   জাকির   হোসেন   বলেন , “ মেধা   নামে   কিভাবে   সিট   বরাদ্দ   দেওয়া   হয় ,  তা   আমাদের   জানা   নেই।   আমাদের   অনেক   গরীব ,  অসচ্ছল   ভাইয়েরা   দুইবেলা   খাবার   জোগাড়   করতেই   হিমশিম   খাচ্ছে ,  অথচ   তারাও   হলে   সিট   পাচ্ছে   না।   প্রশাসন   শুরুতে   বলেছিল ,  প্রয়োজনে   ডাবল   বেড   দিয়ে   হলেও   শতভাগ   আবাসন   নিশ্চিত   করবে ,  কিন্তু   এখন   অনেক   হলে   পর্যাপ্ত   বেডই   নেই। ”

রাজনীতি   বিজ্ঞান   বিভাগের   শিক্ষার্থী   পলাশ   বলেন , “ শিক্ষার্থীদের   মৌলিক   অধিকারগুলো   প্রশাসন   নিশ্চিত   করতে   ব্যর্থ   হয়েছে।   আবাসন   সংকট ,  খাবারের   মান   ও   শাটল   ট্রেনের   শিডিউল   সমস্যা — কোনো   কিছুতেই   সমাধান   আসছে   না।   বর্তমানে   অনেক   হলে   মিল   সিস্টেম   চালু   হওয়ায়   যারা   আশপাশে   বা   কটেজে   থাকছেন ,  তাদের   জন্য   নিয়মিত   খাবার   জোগাড়   করাও   কঠিন   হয়ে   পরছে।




বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ

বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবান। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন সংকটময় সময়ে যখন অনেকেই নীরব, তখন কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে নয়; বরং নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবানের একদল তরুণ।
মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ক্যাচিংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ৯০টিরও বেশি দুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারের হাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ দেখে কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা ত্রাণসামগ্রী কিনে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
তাদের ভাষ্য, “এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। আমরা জানি, এই সহায়তা সব মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবুও যারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন, তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, দুর্যোগের সময় মানবতার কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তাহলে বান্দরবানের এই সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।”
তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো সংগঠন নই এবং কারও সহযোগিতার অপেক্ষায়ও ছিলাম না। নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এটি আমাদের কার্যক্রমের শুরু মাত্র। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উদ্যোক্তারা বান্দরবানের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সামর্থ্যবান সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও সবাই এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।




কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত
ছবি সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকও নিহত হন।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক।

তিনি বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।




লামায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

লামায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা থানা পুলিশের অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এজাহারভুক্ত প্রধান পলাতক আসামি নাছির মাঝি (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​ সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল)মাসুম সরদার এবং লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে থানা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার(১২ জুন)রাতে এসআই জামিল আহমদ ও সঙ্গী ফোর্সের তৎপরতায় ০৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ডের বনফুর বড় পাড়া বাইশখাইল্লা ঝিরি মুসলিম পাড়াস্থিত নিজ বসতঘর থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত আসামি নাছির মাঝি (৫০)ফাঁসিয়াখালী ইউপির ২৮৪নং ইয়াংছা মৌজার ০৯নং ওয়ার্ডের বাইশখাইল্ল্যা ঝিরি মুসলিম পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ও মৃত মজু মাঝি​র ছেলে।থানা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,  আসামির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে  ১১ জুন লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(৪)(খ) ধারা এবং পেনাল কোডের ৫০৬(২) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-০৫)। মামলার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।

​লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে ইতিমধ্যেই বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা,নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের এমন কঠোর ও বিশেষ অভিযান সর্বদা অব্যাহত থাকবে।