অস্ত্র জমা দিয়েছি ঠিকই ট্রেনিং জমা দেয়নি: উইন মং জলি
অস্ত্র জমা দিয়েছি ঠিকই ট্রেনিং জমা দেয়নি, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কাঁধে অস্ত্র নেওয়া মানেই কেউ সন্ত্রাসী নয়। যখন কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিকভাবে অত্যাচার, নিপীড়ন ও দমননীতি চালানো হয়, তখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরোধ করতে অস্ত্র হাতে নেওয়া স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) বান্দরবানে রাজার মাঠে জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী ও পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করুন এ স্লোগানকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮বছর বর্ষপূর্তি উদযাপনে গণসমাবেশে আসা সাত উপজেলা থেকে হাজারো পাহাড়ি নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিতিতে বিশাল গণ সমাবেশ ও আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলি প্রধান অতিথি থেকেই এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপত্তা অভিযান, পাহাড়ে সহিংসতা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন সরকার। অনেক সময় রাষ্ট্র বা কিছু পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থে আমাদের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। কিন্তু আমরা আমাদের অধিকার, সংস্কৃতি ও জমি রক্ষার জন্য লড়াই করে যাবো। পাহাড়ে যে সংঘাত চলছে তা ভয় বা শক্তির প্রয়োগ দিয়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আমরা শান্তি চাই।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মিউচিং মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি স্বতন্ত্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে করা চুক্তিতে তাদের সাংস্কৃতিক ও নিজস্ব অধিকার রক্ষার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৩২টি। বাকি ধারাগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
গণ সমাবেশে বক্তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক সংকট ও বৈষম্যের কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে অনাস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির জন্য পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা, রাজনৈতিক সমাধান এবং রাষ্ট্র ও জনগোষ্ঠীদের মধ্যে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি সুমন মার্মার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বান্দরবান জেলার সভাপতি উলিসিং মার্মা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলার সহসম্পাদক সিংওয়াই মং মার্মা, সিএইটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক মংনু মার্মা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলার সদস্য থুইমংপ্রু প্রমুখ। অন্যদিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের উদ্যোগে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র ২৮তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই ও জেলা পরিষদের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ থেকে র্যালী বের হয়ে বান্দরবানে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজার মাঠে এসে সম্মিলিত হয়।











