অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্পমালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, এসব ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকালও কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি পক্ষ সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইবেন না। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলে সরকার বিশ্বাস করে। তবে কোনো শ্রমিক সংগঠনের নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদেরও সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে মালিকপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব কারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা সরকারকে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা তৈরিতে জড়িত শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। কারণ, এর সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয় জড়িত। কিছু কারখানা আর্থিক সংকট বা রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে গাজীপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার কয়েকটি কারখানা গতকাল এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো আজ চালু হয়েছে।

পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধিদের নাম দেয়। গতকাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সভা হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সময়সীমা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ও জীবনমানের উন্নতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার বিকেল ৩টায় বৈঠকের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিকেলে শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ও পরামর্শ শোনা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। তারা দেশে ফিরলে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনা তৈরি করে পলাতক নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি বা নভেম্বর কোনো মাসকে কেন্দ্র করেই দেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বিজিএমইএ'র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএ'র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা

এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা
ছবি সংগৃহীত।

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়নের আশা করছেন নবগঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি বলেন, আগেরবারের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না। শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চেয়ারম্যান।

এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলো এই সভার মধ্য দিয়ে।

সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, গত ১ নভেম্বর সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি, অচিরেই পরবর্তী সভায় মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারব। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন। পরবর্তী সভায় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ নেওয়া হবে।

আগেরবার মজুরি নির্ধারণে সাতটি সভা করতে হয়েছিল। এবার কতটি সভা লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত এ ধরনের কাজের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকে। তবে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মধ্যেই প্রথম সভা হয়েছে। তাই এবার আগের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে আশা করছেন তারা।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের কর্মপরিকল্পনা ও কার্যপদ্ধতি শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষেই রয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই শ্রমিকদের বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে দ্রুত ভালো ফল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া মজুরির প্রস্তাব এবং মালিকপক্ষের মতামত পাওয়ার পর বোর্ড পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

বোর্ডের পরবর্তী সভা আগামী সপ্তাহে হতে পারে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিজ নিজ সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব তৈরির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভালো ফল নাও আসতে পারে। তাই দ্বিতীয় সভার আগে তাদের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে।




দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি ভবনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও পতাকা উত্তোলন করা হবে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বসংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করা হয়েছে।




শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি

শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি
ছবি সংগৃহীত।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং করছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে এসব ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।