আনোয়ারায় সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা: শিশু কন্যার মৃত্যু, মা আশঙ্কাজনক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ইছামতী খালে ঝাঁপ দিয়ে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। এতে আট বছর বয়সী শিশুকন্যা রাইছার মৃত্যু হলেও মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৩২) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ইছামতী খাল থেকে তাদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। নিহত রাইছা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়া গ্রামের প্রবাসী কায়সারের মেয়ে। মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে জান্নাতুল ফেরদৌস তার মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর এক ভ্যান চালক খালে দুজনকে ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাইছাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জান্নাতুল ফেরদৌসের মা খতিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, "১৪ বছর আগে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জান্নাতুলের ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে কয়েক দফায় জামাতাকে টাকাও দিয়েছি। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এই মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আমার মেয়ে নাতনিকে নিয়ে মরতে চেয়েছিল।"
তবে যৌতুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জান্নাতুলের ননদ হাসিনা আকতার। তিনি দাবি করেন, সকালে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর কথা বলে জান্নাতুল বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
আনোয়ারা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল্লাহ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম উদ্ধারে অংশ নেয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মা সুস্থ হলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।











