আনোয়ারায় সজ্জাদ হত্যা মামলার আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিএনজি চালক মো. সজ্জাদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে লিয়াকত আলী (৪৮) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলায় মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার লিয়াকত আলী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২ নম্বর সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রাতে সজ্জাদের হাত-পা বাঁধার জন্য একটি গামছা কেনেন লিয়াকত আলী। পরে দুইটি ধারালো ছুরি দিয়ে সজ্জাদকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করতে চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংসতার প্রমাণও তদন্তে পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে লিয়াকত আলীকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এর আগে এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পলাতক আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত লিয়াকত আলীকে রোববার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক মো. সজ্জাদ। চার দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর বরুমছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী নুরুল হকের একটি ফিশারিজ পুকুরের পাড়সংলগ্ন পানি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. নাছির ড্রাইভার বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।











