ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!

ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৩টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর। আগুনে তাদের ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগুন লাগার আগে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে জামাল উদ্দীন আহমদের ঘরের প্রায় ৫০ আঁড়ি ধান, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার বসতঘরও পুড়ে গেছে। তাঁর পরিবারের দাবি, এতে প্রায় এক লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে আবুল মনসুরের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বলেন, ‘আগুনে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ ও দুটি এনজিওর কিস্তি পরিশোধের জন্য জমানো আমার প্রায় ৭০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে।’

রাকিবের ভাই আকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন পাশের কয়েকজন ব্যক্তি। এ নিয়ে রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়।

আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ঘরের মধ্যে একটি সেমিপাকা, একটি বেড়ার এবং অন্যটি মাটির তৈরি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া আনোয়ারা থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।




বোয়ালখালীতে রাতে দায়িত্ব পালনের সময় সাপের কামড়ে এসআই আহত

বোয়ালখালীতে রাতে দায়িত্ব পালনের সময় সাপের কামড়ে এসআই আহত
ছবি সংগৃহীত।

বোয়ালখালীতে রাতে চরণদ্বীপ এলাকায় তদন্তের দায়িত্ব পালনের সময় সাপের কামড়ে আশরাফুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব চরণদ্বীপে উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম তদন্তে গেলে তাঁকে সাপে কাটে।

বোয়ালখালী থানায় কর্মরত এসআই আশরাফুল জানান, পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকায় একটি তদন্তের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের মতো দুটি দাগ দেখতে পান। ওই স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা অজ্ঞাত কামড় (Unknown Bite) হিসেবে অ্যান্টিভেনম দেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বোয়ালখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আলম বলেন, রাতে পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকায় তদন্তের কাজে গেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী সাপে কামড় দিয়েছে, তা বোঝা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহ জালাল বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে সাপের কামড়ের মতো দুটি দাঁতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কী সাপে কামড় দিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অজ্ঞাত কামড়ের জন্য তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




বাঁশখালীতে বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা: আহত ৬

বাঁশখালীতে বনভূমি উদ্ধার অভিযানে হামলা: আহত ৬
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি বনভূমি দখল করে নির্মিত বসতঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা। এতে বন বিভাগের পাঁচ কর্মী এবং পুলিশের এক কনস্টেবলসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার করলাশিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি বনভূমি দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি মো. নজরুল ইসলাম কালু নামে এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে একটি বসতঘর নির্মাণ করেন।

এই সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অভিযান চলাকালে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. লেয়াকত আলী এবং মো. নজরুল ইসলাম কালুর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা, দা-কিরিচ ও ইটপাটকেল নিয়ে বনকর্মী ও পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।

হামলায় আহত বনকর্মীরা হলেন—ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং শামসুল আলম (৪৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল।

জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হক এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




উন্নয়ন আর সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে জুঁইদণ্ডীর চেয়ারম্যান প্রার্থী ‘সুমন’-এর গণসংযোগ

উন্নয়ন আর সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে জুঁইদণ্ডীর চেয়ারম্যান প্রার্থী ‘সুমন’-এর গণসংযোগ
ছবি সংগৃহীত।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা উন্নয়ন ও সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সোহেল উদ্দিন সুমন। বর্তমানে তীব্র গতিতে চলছে তাঁর গণসংযোগ ও পথসভা।

নির্বাচন উপলক্ষে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ বাজার, রাস্তার মোড় ও গ্রামগুলোতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন। মানুষের সাথে এই আলোচনায় ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

গণসংযোগ শেষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সোহেল উদ্দিন সুমন বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। আপনাদের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে যদি আপনারা আমাকে কাজের সুযোগ দেন, তবে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে এই ইউনিয়নে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে এলাকার অবহেলিত রাস্তাঘাট সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মোহাম্মদ আবু সালেহ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুদ্দিন দস্তগীর, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ সোহেল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ জয়নাল, যুবদল নেতা মোহাম্মদ আবছার সিকদারসহ জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।