ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি খুন, গুরুতর আহত ১
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি খুন, গুরুতর আহত ১

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি খুন, গুরুতর আহত ১
ছবি সংগৃহীত।

ইতালির রাজধানী রোমে দুষ্কৃতিকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ঘটেছে এ নৃশংস ঘটনা।  

নিহতদের মধ্যে পরিবারের প্রধান কামাল হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জে। দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

নিহত বাকি ২ জন হলেন কামাল হোসেনের স্ত্রী এবং ৫ বছর বয়সী মেয়ে। দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন কামাল হোসেনের বড় ছেলে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অস্ত্র হাতে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীর অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সী কন্যাসন্তান।

এসময় কামালের ১৮ বছর বয়সী ছেলে হামলাকারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় সে সাহায্যের জন্য ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বড় ছেলেকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।

ইতালীয় পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার জেরে ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাংলাদেশিরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘাতককে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি মর্মান্তিক, লোমহর্ষক অপরাধ। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।”

ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে নিহতদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে অগ্রগতির বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি