ঈদগাঁও রাবার ড্যাম ফুলাতে দিচ্ছে না ইটভাটার মালিকরা! ৫ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ অনিশ্চিত!

ঈদগাঁওয়ে ইটভাটা মালিকদের কারণে রাবার ড্যাম ফুলাচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। ফলে সেচ ও পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাড়ে পাঁচ হাজার একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার সুযোগ দিতে ইটভাটা মালিকদের স্বার্থে রাবার ড্যাম না ফুলিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না চাষীরা। ফলে উল্লেখিত সব জমিতে কৃষি উৎপাদন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, ঈদগাঁও নদীতে স্থাপিত দুইটি রাবার ড্যাম থেকে শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়। ঈদগাঁও রাবার ড্যাম ও পোকখালী রাবার ড্যাম থেকে এতদ এলাকার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার একর ধানক্ষেত ও সবজিক্ষেতে এ পানি দিয়ে চাষ করা হয়।
পোকখালী রাবার ড্যাম দুই সপ্তাহ আগে ফুলিয়ে ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ শুরু হলেও ঈদগাঁও রাবার ড্যাম এখনো ফুলানো হয়নি।
জালালাবাদ পালাকাটার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় আগে আমন ধান কেটে নেওয়ার পর থেকে এখানকার শস্যভান্ডার খ্যাত বিশাল বিলগুলো খালি পড়ে আছে। জালালাবাদের ধনকা বিল, চৌফলদন্ডী বিল, ইসলামাবাদ বিল ও আরও অন্যান্য বিলের উর্বর ফসলি জমিতে আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য এখনো পানি সরবরাহ করা হয়নি। এর ফলে চরম বিপদে ঈদগাঁও’র ৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার একর ফসলি জমি, কৃষক ও কৃষিখাত। আসন্ন বোরো ধান মৌসুমের জন্য বীজতলা তৈরির সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও পানির অভাবে বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার বর্গা চাষী কাউসার বৈদ্য বলেন, রামুর ঈদগড় থেকে সদরের পোকখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারব্যাপী ঈদগাঁও নদীর চরে চাষকৃত শত শত একর সবজিক্ষেতও এখন সেচের পানি সংকটে পড়েছে।
ঈদগাঁও, জালালাবাদ, পোকখালী, ইসলামাবাদ, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে বিগত আমন ধান মৌসুমের ধান কাটার পর আপাতত খালি হওয়া ধানক্ষেত থেকে টপসয়েল কাটার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইটভাটা মালিকদের সাথে রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ, স্কিম ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্টদের গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাষীরা।
টমটম ড্রাইভার এইচ এন আলম বলেন, জালালাবাদ ইউনিয়নের লরাবাক, পালাকাটা ও ফরাজী পাড়া সংলগ্ন ধনকা বিলের ফসলি জমি থেকে রাতদিন মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক ডাম্পার ট্রাক ও ডজন খানেক এক্সেভেটর দ্বারা এসব মাটি কাটা হচ্ছে। এমনকি রাতেও শক্তিশালী সার্চলাইট জ্বালিয়ে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে এরা। স্থানীয় সন্ত্রাসী, চোর-ডাকাত ও এলাকার মাস্তানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট মাটি কাটা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে জানা গেছে।
ঈদগাঁও মেহের ঘোনার ট্রাক্টর চালক আব্দুস সালাম জানান, ধানক্ষেতে পানি প্রবাহের জন্য ঈদগাঁও রাবার ড্যাম না ফুলিয়ে এখনো নালা কাটার কাজ সম্পন্ন করেনি স্কিম কর্তৃপক্ষ।
ইসলামাবাদ সিকদার পাড়ার রিকশা চালক গিয়াস উদ্দিন আবু বলেন, রহস্যজনক কারণে ঈদগাঁও রাবার ড্যাম ফুলানো হচ্ছে না। এ সুযোগে বৃহত্তর ঈদগাঁও’র বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ৮টি ব্রিকফিল্ডে এখন ফসলি জমি থেকে রাতদিন টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।
গত রাতে সরেজমিন দেখা যায় জালালাবাদ ধনকা বিল, মধ্যম পোকখালী বিল ও ঈদগাঁও মাইজ পাড়ার ঝাঁইক্যা কাটা বিলের বিভিন্ন পয়েন্টেও ডজনখানেক শক্তিশালী এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ফসলি জমিতে পানি উঠলে এই মাটি কাটা সম্ভব হবে না। তাই রাবার ড্যাম ফুলানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন কলাকৌশল ও মোটা অঙ্কের টাকায় চারদিক ম্যানেজ করে রাবার ড্যামের ফুলানো হচ্ছে না। আর এতে চরম বিপদে পড়েছে ৭/৮ ইউনিয়নের সাড়ে পাঁচ হাজার একরের কৃষিখাত। এখনই বোরো চাষ শুরু করা না গেলে পরবর্তীতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে সেচ সংকট হতে পারে। এতে আগামীতে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈদগাঁও রাবার ড্যাম ব্যবস্থাপনা সমিতির সেক্রেটারি শাহনেওয়াজ মিন্টু বলেন, রাবার ড্যাম থেকে শীঘ্রই পানি সরবরাহ করা হবে।
পোকখালী রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিজুল হক রুবেল বলেন, বীজতলা তৈরির সুবিধার্তে রাবার ড্যাম ফুলিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, রাবার ড্যাম থেকে পানি ছাড়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।










