ঈদগাঁওতে রাত নামলেই শুরু হয় ফসলি জমির টপসয়েল লুট! ব্যবহৃত হচ্ছে ৮৫টি ডাম্পার

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলাব্যাপী ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। রাত নামলেই উপজেলার বিভিন্ন ফসলি বিলে শতাধিক ভেকু মেশিন (এক্সকাভেটর) দিয়ে রাতদিন চলে এ মাটি কাটা। আবাদি জমি থেকে এভাবে টপসয়েল কেটে নেওয়ায় উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে ফসলি জমিগুলো।
গত রাতে সরেজমিন দেখা যায়, জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে। টপসয়েল পরিবহনের জন্য বিলের বুক চিরে অস্থায়ী সড়কও তৈরি করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজীপাড়ায় ফসলি জমিতে স্থাপিত টি কে ব্রিক ফিল্ডে এসব টপসয়েল নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, ডজনখানেক ভেকু মেশিন (এক্সকাভেটর) ও শতাধিক ডাম্পার ট্রাক নিয়ে সারারাত সমানতালে চলে এ টপসয়েল কাটা। এতে ক্ষতবিক্ষত ও বিরানভূমিতে পরিণত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার শস্যভান্ডার খ্যাত ধমকা বিল।
ক্রমাগত টপসয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ায় শস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে এতদঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এছাড়াও একই ইউনিয়নের পালাকাটা ও লরাবাক গ্রামের মধ্যবর্তী বিলের অন্তত চার পয়েন্টে ১০/১২ টি এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ঈদগাঁও রাবারড্যাম রাস্তার মাথার অদূরবর্তী বিল ও পালাকাটা রেলক্রসিংয়ের পশ্চিমেও এক্সকাভেটর দিয়ে সারারাত টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। দক্ষিণ লরাবাক-মোহনবিলা সংযোগ সড়কের দু'পাশের বিলে ডজনখানেক এক্সকাভেটর দিয়ে টপসয়েল কাটা হচ্ছে। টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জেলার শস্যভান্ডার খ্যাত ধমকা বিল পরিণত হচ্ছে বিরান ভূমিতে।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী হাঁসের ডিঘী বিল, বোয়ালখালী বিল, ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী, মাইজপাড়া ঝাইক্কা কাটা বিলেও চলছে একই কায়দায় মাটি লুট। এভাবে সর্বত্র টপসয়েল লুটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাতে শক্তিশালী ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে সকাল পর্যন্ত টপসয়েল কাটা অব্যাহত রেখেছে ইটভাটা মালিকরা।
ফসলি জমি থেকে দিনরাত কেটে নেওয়া এসব টপসয়েল শত শত ডাম্পার ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। আবাদি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নিয়ে পর্বতাকৃতির স্তূপ করা হয়েছে ইটভাটাগুলোতে।
এলাকাবাসী জানান, আইনের তোয়াক্কা না করে লোকালয়ের মাঝে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে আবাদি জমিতে অবৈধ এসব ব্রিক ফিল্ড স্থাপন করা হয়েছে।
অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এসব ইটভাটা বিগত প্রায় ২ দশক ধরে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যগত হুমকি সৃষ্টি করলেও সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক জমির উদ্দীনের ফোন রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, টপসয়েল কাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।










