উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির পাহাড়, জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা

কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে পুরো অফিসটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি থাকলেও দালালচক্রের প্রভাবে সেখানে অবাধে চলছে ঘুষ বাণিজ্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার মো. মোরশেদ আলম এবং অফিস সহকারী বেবী রাণী দে-কে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে জমির বাজারমূল্যের অন্তত শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ ($০.৫\%$) হারে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কোটি টাকার জমি নিবন্ধনে সেবাপ্রার্থীদের অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূত এই অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মোহরার সৃদুল দাশ ও রবিউল্লাহ রবির বিরুদ্ধেও।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও অসাধু চক্রের তৎপরতা থামছে না। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বাজারমূল্য কম দেখিয়ে সরকারকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এমনকি দলিল লেখকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং 'গেট পাস' বাতিলের হুমকি দিয়ে তথ্য গোপন করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এখানে অভিযান চালিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পায়। তবে এরপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে রবিউল্লাহ রবির কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অফিস সহকারী ও সংশ্লিষ্টদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মো. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুপস্থিতি ও দালালদের তোষামোদি করার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।










