উন্নয়নে পিছিয়ে উত্তর সাতকানিয়া: বঞ্চনা নিরসনে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি জোরালো
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নে পিছিয়ে উত্তর সাতকানিয়া: বঞ্চনা নিরসনে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি জোরালো

উন্নয়নে পিছিয়ে উত্তর সাতকানিয়া: বঞ্চনা নিরসনে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি জোরালো
উত্তর সাতকানিয়ার প্রাণকেন্দ্র কেরানিহাট।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে উত্তর সাতকানিয়া। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এই অঞ্চলটি অর্থনীতি ও রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে দীর্ঘকাল ধরে চলা এই অবহেলার অবসান ঘটাতে এখন সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস ও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে নতুন উপজেলা বা থানা গঠনই এখন একমাত্র সমাধান। এক সময় এই দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে উঠলেও দাবি আদায় না হওয়ায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবছেন আন্দোলনকারীরা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে ৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৭ হাজার ৯১৬ জন ভোটারকে নিয়মিত প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতকানিয়ার ভোটাররা বর্তমানে দুটি আলাদা সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। ২৯১-চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের সাথে যুক্ত রয়েছে খাগরিয়া, কেওচিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া এবং পুরানগড় ইউনিয়ন। বাকি ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ২৯২-চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের অন্তর্ভুক্ত।

মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভোটাররা চট্টগ্রাম-১৫ আসনের অধীনে স্বস্তিতে থাকলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত ৬টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম অসন্তোষের মধ্যে রয়েছেন। উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কাজ কিংবা সংসদ সদস্যকেন্দ্রিক কার্যক্রমে তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত খাগরিয়ায় ২৫ হাজার ১৬১ জন, কেওচিয়ায় ২২ হাজার ৭১৩ জন, কালিয়াইশে ১৭ হাজার ১৮৭ জন, ধর্মপুরে ১১ হাজার ৩৪২ জন, বাজালিয়ায় ১৫ হাজার ৪৩৯ জন এবং পুরানগড় ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৭৪ জন ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের অধীনে চরতী ইউনিয়নে ২৭ হাজার ৪৫১ জন, নলুয়ায় ১৬ হাজার ৮০৩ জন, কাঞ্চনায় ২০ হাজার ৫৭১ জন, আমিলাইষে ১০ হাজার ৭৮৩ জন, এওচিয়ায় ২০ হাজার ৯১৬ জন, মাদার্শায় ১২ হাজার ৪৩৩ জন, ঢেমশায় ১৩ হাজার ৮৬১ জন, পশ্চিম ঢেমশায় ৭ হাজার ৩৫ জন, ছদাহায় ৩০ হাজার ৯৮৬ জন, সদর ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৪৯২ জন, সোনাকানিয়ায় ২৩ হাজার ৩৬১ জন এবং পৌরসভায় ৪৫ হাজার ৫৭৭ জন ভোটার রয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলার প্রায় ২৮২.৪০ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল জনপদে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু সীমিত লোকবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে থানা ও উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সাতকানিয়ায় যে পরিমাণ বরাদ্দ প্রয়োজন, সে তুলনায় প্রাপ্তি খুবই সামান্য। অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, ব্যবসায়িক ও পেশাগত কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার প্রচুর মানুষ এখানে বসবাস করে, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্যরা অধিকাংশ সময় চন্দনাইশ কেন্দ্রিক উন্নয়নে মনোযোগী থাকেন, যার ফলে সাতকানিয়ার এই অংশটি অবহেলিত থেকে যায়। পাশাপাশি একই উপজেলায় দুইজন সংসদ সদস্যকে প্রটোকল দেওয়া এবং তাদের সুপারিশ সমন্বয় করতে গিয়ে প্রশাসনকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এ সমস্যা সমাধানে চিন্তাশীল মহলের প্রস্তাব হলো, সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন করা অথবা ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে কেরানিহাট কেন্দ্রিক আলাদা উপজেলা বা থানা গঠন করা। একজন নারী সংগঠকের মতে, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া যদি ৯টি করে ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা হতে পারে, তবে সাতকানিয়ার উত্তর অংশ নিয়ে নতুন উপজেলা গঠন করলে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম রাহী (সিআইপি) জানান, উত্তর সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রশাসনিক থানা এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠনের সব ধরনের উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করবেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মীরাও একই সুরে কথা বলছেন। তাদের মতে, উত্তর সাতকানিয়া আলাদা প্রশাসনিক ইউনিট হলে বৈষম্য দূর হবে। সচেতন নাগরিকদের প্রস্তাব হলো, খাগরিয়া, কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, পুরানগড় ও ধর্মপুরের সাথে ছদাহা, ঢেমশা ও নলুয়া ইউনিয়নকে যুক্ত করে নতুন উপজেলা গঠন করা হোক। এতে নতুন উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা হবে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৬ জন এবং মূল সাতকানিয়া উপজেলায় ভোটার থাকবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৯ জন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জনমত ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার সংবাদ পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হবে।




আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের

আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিতে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অ্যামচেমের নেতারা এই প্রত্যাশার কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের কর রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। বিগত বছরগুলোতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল আরও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের অংশীদারত্ব কামনা করে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অগ্রগতির প্রশংসা করে অ্যামচেম। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলোকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে পিডিপিএ ও এনডিজিএ প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে অ্যামচেম প্রযুক্তি, এআই, ক্লাউড প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য অ্যামচেমের পক্ষ থেকে 'ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম' বা টাস্কফোর্স এবং 'পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অ্যামচেমের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নীতির স্পষ্টতা, দক্ষ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে সহসভাপতি আলা উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রাসেল আল মামুন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আতাউর রহিম চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ অংশ নেন।




চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও জোবাইরুল আলম মানিককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার শামসুল আলম; যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন কায়সার, মোহাম্মদ সেলিম, আলাউদ্দিন মাসুদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইয়ুম; সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান চৌধুরী; যুগ্ম সদস্যসচিব যথাক্রমে মাওলানা আনাস মাহমুদ, আরিফুর রহমান, ফরিদুল আলম, মীর মনসুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, রোকজিনা আক্তার, জিয়াউল করিম, মোহাম্মদ আরজু, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, মোঃ নুরুল আমীন, মঈনুদ্দিন সাকিব; সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সিফাত চৌধুরী; দপ্তর সম্পাদক ইরফান মাহমুদ আল সাঈদ; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরমান উদ্দিন আজাদ; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন তারা; জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল আলম; কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম; সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ বদিউল আলম নোমান; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার ইমন; শিক্ষা‌বিষয়ক সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন শাকিল এবং নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে ডালিয়া বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, "সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এ কমিটি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন।"




বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!

বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!
নিহত বাবা শাহজাহান ও তাঁর হত্যাকারী ছেলে মুহাম্মদ শওকত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘাতক ছেলের হাতে মোহাম্মদ শাহজাহান নামে এক বাবা খুন হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদাগাজী পাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হতভাগ্য বাবা প্রাণ হারিয়েছেন।

পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার রাতে প্রবাসফেরত ঘাতক ছেলে মুহাম্মদ শওকত (২২) বাবার ওপর হামলা চালায়। এতে বাবা শাহজাহান মারাত্মকভাবে আহত হলে আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে শাহজাহান মারা যান। ছেলের হাতে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা গেছে, ছেলে মুহাম্মদ শওকত প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে পাঠোনো টাকায় বাড়িতে পাকা দালান তোলার কাজ শুরু হয়। পরে ছেলে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্রে মা-বাবার অজান্তে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই মেয়েকে নিয়ে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। এর মধ্যে বন্যা শুরু হলে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন ছেলে। এ নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও বিবাদ হতো।

সোমবার রাতে বাবা ছেলেকে বিদেশ থেকে চলে আসার বিষয় নিয়ে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে শওকত বাবার ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি মারধরে অজ্ঞান হয়ে যান বাবা শাহজাহান। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বাবা শাহজাহান প্রাণ হারান।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।