এক ঘন্টার মধ্যে সাঙ্গু অনলাইন থেকে নিউজ মুছে ফেলার আল্টিমেটাম

দৈনিক সাঙ্গু অনলাইনে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের অনিয়ম: প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় চরম ক্ষেপেছে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের কর্মকর্তারা। আজ সন্ধ্যায় দৈনিক সাঙ্গুর বিশেষ প্রতিনিধি নুর উদ্দিনের ফোনে কল করে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের সদর রেঞ্জ অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন এক ঘন্টার মধ্যে অনলাইন থেকে সংবাদ মুছে না দিলে দল বল নিয়ে তিনি সাঙ্গু অফিসে এসে হামলা করবেন। তিনি বলেন কি পাইছেন আপনার বার বার সংবাদ প্রকাশ করবেন আমরা চুপ করে থাকবো।
উল্লেখ আজ সকালে দৈনিক সাঙ্গু অনলাইনে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের অনিয়ম: প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে উপকূলীয় বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত এবং পরিবেশ নীতিমালা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগে তোলপাড় চলছে । অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন উপকূলীয় বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ৬১ ভাগ আত্মসাৎ করেছেন। এ খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্ধের বেশির ভাগই আমÍসাতের কারণে প্রকল্পে ভবিষত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে লুটপাটের পর বিভাগীয় বনকর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন আমেরিকা চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশস্ত সুত্রে জানা গেছে তিনি আমেরিকা স্থায়ী হতে চাকরীতে ইসতফা দেওয়ার আবেদন করেছেন।
একাধিক সরকারি ও বেসরকারি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপকূলীয় বন সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পগুলোর প্রায় ৬১ শতাংশ অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বন রক্ষার নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিল পরিশোধ হলেও বাস্তবে অধিকাংশ জায়গায় গাছ নেই, কিংবা রোপণকৃত চারা নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা ও মিরসরাই অঞ্চলে বনভূমি দখল, অবৈধ কাঠচুরি ও মাছচাষের নামে বনভূমি ধ্বংস চলছে বছরের পর বছর। অনেক জায়গায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় কিছু বনকর্মীর যোগসাজশে এসব দখল কার্যক্রম গড়ে উঠেছে।
বনবিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বনকর্মী বলেন, “উর্ধ্বতন মহলের অনুমতি ছাড়া মাঠপর্যায়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অনেক সময় লিখিত অভিযোগ গেলেও তা নথির স্তূপে চাপা পড়ে থাকে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আজম বলেন, “বন সংরক্ষণের নামে অনেক প্রকল্প নেয়া হয়, কিন্তু টেকসই মনিটরিং বা জবাবদিহি না থাকায় সেগুলোর প্রভাব মাঠে দেখা যায় না। বন রক্ষার জন্য স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।”
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে বন অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখনো অনেক বনভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে, কাঠ পাচারকারীরা রাতের অন্ধকারে সক্রিয়। তারা অভিযোগ করেন, সঠিক তদারকি না থাকলে উপকূলীয় বনভূমি অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, বন ধ্বংস বন্ধে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শক্ত আইন প্রয়োগ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ। অন্যথায়, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল একদিন সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)কে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।












