কক্সবাজার-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক:
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজার-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক:

কক্সবাজার-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক:
ছবি সংগৃহীত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে এখনো প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত ঝুলে আছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিশাল তোরণ। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া পৌর শহর, চিরিঙ্গা বাজার, পেকুয়া সদরসহ দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো এখনো রঙিন ব্যানার ও তোরণে ছেয়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রধান সড়ক নয়—সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার), পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও যত্রতত্র ঝুলছে এসব প্রচার সামগ্রী, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কিছু এলাকায় দলীয় নির্দেশনায় স্বেচ্ছায় অপসারণ দেখা গেলেও অধিকাংশ ব্যানার ও পোস্টার এখনো বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের একেবারে কাছেই একাধিক প্রার্থীর বড় ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। প্রশাসনের চোখের সামনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা উচ্ছেদ অভিযান চোখে পড়েনি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—প্রভাবশালী প্রার্থীদের চাপেই কি আইন প্রয়োগে গড়িমসি করা হচ্ছে? সুষ্ঠু নির্বাচন ও সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হবে কি না—এ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকরিয়া বাজারের এক ভোটার বলেন, "তফসিল ঘোষণার পরও যদি প্রার্থীরা আইন না মানেন আর প্রশাসন চুপ থাকে, তাহলে ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।"

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, "প্রচার সামগ্রী অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের প্রক্রিয়া চলছে।"

তবে বাস্তব চিত্র বলছে, নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে কক্সবাজার-১ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।