কক্সবাজারে ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ীকে থানায় ধরে নিয়ে জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ীকে থানায় ধরে নিয়ে জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ

কক্সবাজারে ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ীকে থানায় ধরে নিয়ে জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

শহরের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক ও হোটেল জামান হাইটস এর চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারীকে থানায় ধরে নিয়ে জুলাই আন্দোলনে দুটি হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, জামান হাইটস দখলে নিতে একটি চক্র মোটা অংকে মিশনে নেমেছে।
২১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন শাহজাহান আনসারীর বৃদ্ধ পিতা নুর মোহাম্মদ আনসারী।
তিনি জানান, তাদের পরিচালনাধীন হোটেল জামান হাইটস পরিকল্পিতভাবে অবৈধভাবে দখলে নিতে মরিয়া একটি চক্র। তারা বিপুল টাকার বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে।
নুর মোহাম্মদ আনসারী জানান, ব্যবসায়ীক কাজ সেরে গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফিরছিলেন ছেলে শাহজাহান আনসারী। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর পৌঁছালে সিভিল পোশাকে কোন অভিযোগ ছাড়াই থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজ নিতে সদর মডেল থানায় গেলে কোনভাবেই দেখা বা কথা বলার সুযোগ দেয়নি। বলা হয়, উপরের নির্দেশে তসকে নিয়ে আসা হয়েছে। কারো সাথে তার কথা বলার অর্ডার নেই। কোন গণমাধ্যমকর্মীকেও কোন প্রকার তথ্য দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।
একদিন পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হওয়া দুটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
এই ঘটনাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জুলুম বলে মনে করছে শাহজাহান আনসারীর পরিবার।
তার পরিবার থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করলে হোটেল জামানের ব্যবসায়ীক কাগজপত্র নিয়ে অফিসে যাওয়ার তাগাদা দেন।
সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ করেন নুর মোহাম্মদ আনসারী।
ঘটনার সঠিক তদন্ত করে মিথ্যা মামলা থেকে শাহজাহান আনসারীকে খালাস প্রদানের দাবি তুলেন পরিবারের সদস্যরা।
সেই সঙ্গে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান শাহাজাহান আনসারীর পিতা নুর মোহাম্মদ আনসারী।
সংবাদ সম্মেলনে কারান্তরীন শাহজাহান আনসারীর বড় ভাই রশিদ আনসারী ও মেজ ভাই কাশেম আনসারীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
তবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান।
তিনি জানান, শাহজাহান আনসারী জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অর্থ যোগানদাতা। এই সংক্রান্ত অনেক তথ্য প্রশাসনের কাছে রয়েছে। পরবর্তী তথ্য অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।