কক্সবাজারে র‍্যাবের ৪৭২ সদস্য বদলি, তিন কারণ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে র‍্যাবের ৪৭২ সদস্য বদলি, তিন কারণ

কক্সবাজারে র‍্যাবের ৪৭২ সদস্য বদলি, তিন কারণ
ছবি সংগৃহীত।


কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ নভেম্বর ১৯৮ সদস্য এবং একই দিন আরেকটি প্রজ্ঞাপনে আরও ২০০ সদস্যকে বদলি করা হয়। এর পর ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি প্রজ্ঞাপনে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের ছয় শতাধিক র‍্যাব সদস্য রদবদল হয়েছেন।

র‍্যাব সূত্র জানায়, এত সংখ্যক সদস্যের বদলি তিনটি কারণে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আগে রুটিন দায়িত্বের অংশ হিসেবে রদবদল। এ ছাড়া প্রতিবছর নভেম্বরের দিকে র‍্যাব সদস্যদের এক ব্যাটালিয়ন থেকে অন্য ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়। কক্সবাজার থেকে বদলি হওয়া অধিকাংশ সদস্যকে এই দুই কারণে অন্য ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়।


তবে এর পাশাপাশি মাদক উদ্ধারের কারসাজি এবং এ-সংক্রান্ত মামলায় অনিয়মের অভিযোগে সেপ্টেম্বরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি এরই মধ্যে কক্সবাজার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছে। তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ধরনের দুটি অভিযানে অনিয়মের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। রদবদলের তালিকায় তারাও রয়েছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে র‍্যাব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী  বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে র‍্যাবে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। র‍্যাব-১৫ আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যাটালিয়ন। তাই সেখান থেকে তিনশর মতো সদস্য বদলি করা হয়। নির্বাচন ছাড়াও প্রতিবছরের শেষের দিকে র‍্যাব সদস্যদের রদবদল হয়। কারণ এই সময় সন্তানদের পরীক্ষা শেষ হয়। সবাই যার যার পরিকল্পনা মতো নতুন এলাকায় পরিবার নিয়ে গুছিয়ে নিতে পারেন।

মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাদকের সঙ্গে তো একটি ব্যাটালিয়নের তিনশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে না। এটা স্বাভাবিক কোনো বিষয়ও নয়। হয়তো নির্দিষ্ট যে অপারেশনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে তারা সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন। মাদক-সংক্রান্ত ব্যাপারে অনিয়মে যাদের নাম আসবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

র‍্যাবের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, মাদক নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেটি শুরু থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করেছে র‍্যাব।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় অভিযানে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখায় র‌্যাব-১৫। উদ্ধার দেখানো হয় আরও ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা। তবে অভিযোগ ওঠে, ইয়াবার সংখ্যা বেশি ছিল। প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ইয়াবা গোপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিনের সহযোগী সেলিম উদ্দিনের নাম ‘ভুল তথ্য দিয়ে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, মাদক কারবারি সেলিমকে রক্ষা করতে নামের মিল ব্যবহার করে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নভেম্বরের শুরুতে র‌্যাব সদরদপ্তরের একটি তদন্ত দল সরেজমিন পরিদর্শনে যায় বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় আরেকটি অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৫। তার কাছ থেকে ৭টি ইটের টুকরা ও দুটি কাঠের লাঠি উদ্ধার দেখায়। এই অস্বাভাবিক জব্দ তালিকা স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ইয়াবা আত্মসাৎ, অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করে র‍্যাব।  

র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।