কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বন্য পাখি পাচার রোধে বন বিভাগের অভিযান: দুইটি ময়না পাখি উদ্ধার

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চল থেকে একটি চক্র নিয়মিতভাবে বন্য পাখি ধরে পাচারের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। বনের প্রাকৃতিক ও নিরাপদ আবাসস্থল থেকে এসব পাখি ধরে এনে পাচারকারীরা চড়া দামে বিক্রি করছে, যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাপ্তাই বন বিভাগ নিয়মিতভাবে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। তবে বন্যপ্রাণী পাচার রোধে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বন বিভাগ। সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কাপ্তাই বন বিভাগ ঢাকাইয়া কলোনি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাচারের চেষ্টা চলাকালে দুইটি ময়না পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ময়না পাখিগুলোর প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে সেগুলোকে এভিয়ারি পার্কে হস্তান্তর করা হতে পারে। এ বিষয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চল থেকে বন্য পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন বিভাগ বন্যপ্রাণী রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, “বাস, ট্রাক বা যেকোনো ধরনের যানবাহনে পাখি কিংবা বন্যপ্রাণী পরিবহন থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে নিকটস্থ বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।” বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সকলের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।











