কাপ্তাইয়ে পর্যটকের ঢল, অনিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা

শীতের শুরুতেই পাহাড় ও লেকবেষ্টিত কাপ্তাইয়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। তবে আবাসন ও রিসোর্ট ভাড়ার কোনো সরকারি নির্ধারিত তালিকা না থাকায় মালিকদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই লেক ও পাহাড়ি সড়কগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন। বর্তমানে উপজেলার প্রায় সব হোটেল ও রিসোর্টে রুম সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রিসোর্টে সপ্তাহখানেক আগেই অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। পর্যটকের এই বিপুল উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও আবাসন খরচ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক শহিদুল ইসলাম ও ফেনীর ব্যবসায়ী একরাম হোসেন অভিযোগ করেন, খাওয়া-দাওয়া ও নিরাপত্তার পরিবেশ সন্তোষজনক হলেও থাকার খরচ অস্বাভাবিক। তাদের দাবি, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় অনেক রিসোর্ট কক্সবাজারের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করছে। দ্রুত সরকারিভাবে ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ করা হলে সাধারণ পর্যটকরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
বর্তমানে কাপ্তাইয়ের নিসর্গ পড হাউজ, বরগাঙ, লেকশোর, জীবতলী ইকো রিসোর্টসহ প্রায় ডজনখানেক বেসরকারি রিসোর্টে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাঙামাটি-আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সারা বছর ভ্রমণের উপযোগী কাপ্তাইয়ে ক্রমবর্ধমান পর্যটকের তুলনায় আবাসন শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। সরকারি নজরদারি ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে ভাড়ার বৈষম্য দূর করা গেলে কাপ্তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।











