খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রায় ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রায় ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রায় ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে “দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প”-এর অধীনে।


প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী জিসি থেকে ইদগড় জিসি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট। পুরো প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৪২ হাজার ২৫২ টাকা।


প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ফাস্টবিল্ড-উপকূল জেভি, যার প্রধান কার্যালয় ঢাকার কলাবাগান এলাকায় অবস্থিত।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের দেশীয় বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাথরের পরিবর্তে ইট ভেঙে তৈরি খোয়া দিয়ে কংক্রিট ঢালাই করা হচ্ছে, যা একটি আরসিসি সড়কের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করার উঠেছে।


একাধিক এলাকাবাসী জানান,

“শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। বালুর সঙ্গে মাটি মেশানো হচ্ছে, আবার পাথরের বদলে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে নির্মিত সড়ক বেশি দিন টিকবে না—অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাবে।”

প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের পেছনে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহমদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৌশলীর সরাসরি তদারকি থাকার পরও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি অজানা থাকার কথা নয়।


এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত কাজের তদারকি করছি।


কক্সবাজার এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন,

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের অবগত করেনি। সিডিউলের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যদি নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে এবং রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।