গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিক ও জেলিফিশের আধিক্যে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ

বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্বেগ জানান।
গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত মাছ আহরণ বা 'ওভারফিশিং'-এর ফলে বড় মাছ কমে যাওয়ায় জেলিফিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে আধুনিক ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক শ্রেণির ট্রলার আগ্রাসীভাবে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, "এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়ে সরকার দ্রুত কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে।"
তবে নেতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি গবেষণায় আশার কথা হিসেবে টুনা মাছের উজ্জ্বল সম্ভাবনা এবং সুন্দরবনের পাদদেশে একটি নতুন ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা উক্ত নার্সারি এলাকাটি দ্রুত সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও এই বিশাল সম্পদ আমরা এখনো কাজে লাগাতে পারিনি।" তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা অচিরেই সমুদ্র গবেষণার সক্ষমতা বাড়াবে।












