’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ার জমজম হাসপাতাল পিএলসি তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি চক্র চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও গোলাম কবির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমজম হাসপাতাল এই এলাকার অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে থাকেন।

হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৫০০ টাকা এবং মেডিকেল অফিসারের (এমবিবিএস) ফি ২০০ টাকা। ভর্তি রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেন। এক দিনের চিকিৎসক ফি, সার্ভিস চার্জ ও সিট ভাড়া—প্রতিটি ৭০০ টাকা করে নির্ধারিত রয়েছে, যা প্রায় এক বছর ধরে কার্যকর। অসচ্ছল রোগীদের ক্ষেত্রে বিলে ছাড়ও দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই তিন দিন বয়সী নবজাতক আফরা মনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে ২ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনের বিল করা হয় এবং মোট ৮ হাজার ৫০ টাকা থেকে দুই দফায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা মওকুফ করে ৬ হাজার ۷০০ টাকা রাখা হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মূল বিলের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে। ২ হাজার ১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ ও ২ হাজার ১০০ টাকা চিকিৎসক ফি আদায়ের মতো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতি শুক্রবার হাসপাতালে ২০ জনের বেশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকার তুলনায় এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফি কম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার, উন্নত ল্যাবসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা অব্যাহত থাকলে তা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চকরিয়ায় সেবা দিতে নিরুৎসাহিত করবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল করিম, পরিচালক জি এম রুকন উদ্দিন, ডা. ফয়জুর রহমান, ডা. নাসিমা আক্তার, ডা. হেনরিয়েটা গোমেজ, ডা. ফখরুল আনাম ও সামশুদ্দিন আহমদ।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।