চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে ছাত্রী ভর্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে ছাত্রী ভর্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল

চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে ছাত্রী ভর্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ছাত্রী ভর্তির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের "আর্থিক সমস্যা"কে অজুহাত দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলায় স্থানীয় সুধী সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়টি মূলত শুধুমাত্র ছেলেদের পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৫০০ জন ছাত্র এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। যেখানে তীব্র শিক্ষক ও জনবল সংকট রয়েছে, সেখানে কোনো প্রকার সরকারি প্রজ্ঞাপন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই ছাত্রী ভর্তি করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়ালখুশিমতো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকা আক্তার ছিদ্দিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি ছাত্রী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন:

"স্থানীয় অভিভাবকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু আর্থিক সমস্যা রয়েছে। মূলত এই সংকট কাটিয়ে উঠতেই আমরা ছাত্রী ভর্তি করাচ্ছি।" তবে একটি সরকারি বালক বিদ্যালয়ে আর্থিক সমস্যার দোহাই দিয়ে কীভাবে সহশিক্ষা (Co-education) চালু করা সম্ভব, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ঐতিহ্যবাহী এই পাইলট স্কুলে হঠাৎ করে বালিকা ভর্তি করার বিষয়টি নিয়ে চকরিয়ার সুশীল সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং জনবল ছাড়া এভাবে ছাত্রী ভর্তি করা হলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, "বালক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, "সরকারি বালক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। যদি নিয়ম ভেঙে এমনটা করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে এই ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।