চকরিয়ায় প্রবাসীকে হত্যাচেষ্টা: জমি দখলের চেষ্টায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় প্রবাসীকে হত্যাচেষ্টা: জমি দখলের চেষ্টায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

চকরিয়ায় প্রবাসীকে হত্যাচেষ্টা: জমি দখলের চেষ্টায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর ক্রয় করা জমি জবরদখলের চেষ্টা ও বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাউন্ডারি দেয়াল, গেট, সিসি ক্যামেরা ও কাঁচ ভাঙচুরসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম (৪৭), পিতা—মৃত সৈয়দ আহমদ। তিনি কাকারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থান করে উপার্জিত অর্থে জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করেন বলে জানান।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কাকারা মৌজার সৃজিত বিএস ৬৬৯৩ নং খতিয়ানের ৫৬২৩ ও ৫৬২৪ নং দাগের মোট ৭.৫০ শতক জমি তিনি গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে রেজিস্ট্রি করা সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। পরে প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ফরিদুল আলম, সাদ্দাম হোসেন, আমজাদ, আজিজ আহমদ ও রিদুয়ানসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে জমিটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাতে থাকে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা তা অমান্য করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার দিন (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় নুরুল ইসলাম বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রাণ রক্ষার্থে নুরুল ইসলাম দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করে গেট বন্ধ করলে হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির গেট, জানালার কাঁচ, টাইলস ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে আরও প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নুরুল ইসলাম জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসার খবর পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসী মহড়া দেয়, ফলজ নারকেল গাছ থেকে নারকেল পেড়ে নেয় এবং বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্তদের দাবি, তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর করেননি; বরং উল্টোপক্ষ তাঁদের বাড়ির জানালা ভেঙেছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, "অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।