চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১টায় সব সেবা বন্ধ, সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১টায় সব সেবা বন্ধ, সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১টায় সব সেবা বন্ধ, সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ফের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টার পর টিকিট দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং দুপুর ১টা বাজলেই অধিকাংশ চিকিৎসক রোগী দেখা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে প্যাথলজি ও ফার্মেসিসহ বিভিন্ন বিভাগও নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। সেখানে শুধু রাকিব নামের একজন চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিসকাত উদ্দিনের কক্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। একই সময়ে চিকিৎসক ডা. মৃত্যুঞ্জয় বড়ুয়াকেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক ডা. সুজন ত্রিপুরা দুপুর ১টার আগেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষ করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খালেদ হোসেন ও ডা. শামীমা সুলতানাকেও দুপুর ১টার দিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিসকাত উদ্দিন বক্তব্য না দিয়ে উল্টো “অনুমতি ছাড়া কেন হাসপাতালের ভিডিও ধারণ করলেন” বলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, “আজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থাকায় কিছু চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।”

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ নেই।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।