চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১টায় সব সেবা বন্ধ, সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ফের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টার পর টিকিট দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং দুপুর ১টা বাজলেই অধিকাংশ চিকিৎসক রোগী দেখা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে প্যাথলজি ও ফার্মেসিসহ বিভিন্ন বিভাগও নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। সেখানে শুধু রাকিব নামের একজন চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিসকাত উদ্দিনের কক্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। একই সময়ে চিকিৎসক ডা. মৃত্যুঞ্জয় বড়ুয়াকেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক ডা. সুজন ত্রিপুরা দুপুর ১টার আগেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষ করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খালেদ হোসেন ও ডা. শামীমা সুলতানাকেও দুপুর ১টার দিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিসকাত উদ্দিন বক্তব্য না দিয়ে উল্টো “অনুমতি ছাড়া কেন হাসপাতালের ভিডিও ধারণ করলেন” বলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, “আজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থাকায় কিছু চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।”
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।










