চকরিয়ার স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য, দালাল চক্রে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন

চকরিয়ার স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য, দালাল চক্রে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা

চকরিয়ার স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য, দালাল চক্রে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নানা অনিয়ম, গলাকাটা বাণিজ্য এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন, অতিরিক্ত পরীক্ষা–নিরীক্ষা এবং নানা অজুহাতে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কার্যক্রম চালালেও এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত মানদণ্ড মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী একটি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিগ্রিধারী নার্স ও মিডওয়াইফ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে এসব জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রের তৎপরতাও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালরা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হক বলেন, লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধভাবে পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম ও গলাকাটা বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হবে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।