চকরিয়ায় ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ, নোংরা পানিতে মাছের ঘেরে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ, নোংরা পানিতে মাছের ঘেরে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি

চকরিয়ায় ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ, নোংরা পানিতে মাছের ঘেরে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ভাইয়াকাটা এলাকায় দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের পথ জোরপূর্বক বন্ধ এবং খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা কেটে নতুন ড্রেন নির্মাণ করে বসতভিটা ও মাছের ঘেরের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা এবং অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের ড্রেনের মুখে মাটি দিয়ে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি জমে বসতভিটা ও মাছের ঘের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ এবং জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী হারবাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা মিজানুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে তিনি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে ৩৫ কড়া নাল জমি ক্রয় করেন। মানবিক কারণে পাশের জমির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে নিজের জমির ওপর দিয়ে একটি ড্রেন খনন করেন। কয়েক বছর ধরে ওই ড্রেন দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করলেও সম্প্রতি অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সালিসি বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। তবে অভিযুক্তরা বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জসিম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমজাদ হোসেন, শাহ আলম, নাজেম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, আরিফ, শাহেদ, এহসান, আজিম ও নুরুল আবছারসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অভিযোগকারী ড্রেনের মুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা যেমন ইচ্ছা তেমন লেখেন, আমার কিছু হবে না।”

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।