চকরিয়ায় প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল, রহস্যজনকভাবে নিরব কর্তৃপক্ষ
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল, রহস্যজনকভাবে নিরব কর্তৃপক্ষ

চকরিয়ায় প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল, রহস্যজনকভাবে নিরব কর্তৃপক্ষ
ছবি সংগৃহীত।

প্রতিনিয়ত মৌরসী সম্পত্তির মতো করেই শতশত একরের মতো পাহাড় দখল করে নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি। শুধুমাত্র গত একমাসেই দখল করে নেওয়া হয়েছে অন্তত কয়েকশ একর সংরক্ষিত বনের জায়গা। এমনকি দখলে নেওয়া বনভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী মাদার ট্রি (গর্জন), সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা নির্বিঘ্নে কেটেও সাবাড় করে ফেলা হয়েছে।

পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চলতে থাকলেও বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা–কর্মচারীরা একেবারেই চুপ থাকছেন। সংরক্ষিত বনভূমির দখল ও বন উজাড় ঠেকাতে বনবিভাগের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি– কোথাও বনভূমি দখল বা গাছপালা কেটে নেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গেলে দখলকারীরা দলবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের কর্মীদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করছে। এতে অনেকটা জান বাঁচানোটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায় বনবিভাগের কর্মীদের। অবশ্য যারা এই দখলদারির সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা শনাক্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে বন মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দাবি বনবিভাগের।

সরজমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া, মাহমুদ নগর, আলমনগর, পহরচাঁদা, হারবাং ইউনিয়নের হারবাং বনবিটের উত্তর হারবাংয়ের কোরবানিয়া ঘোনা, কাটতলীসহ বিভিন্ন স্থানে এবং কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মানিকপুর বনবিটের উত্তর মানিকপুর, সুরাজপুর, ভিলেজার পাড়া, কাকারা বনবিটের শাহওমর নগর, পাহাড়তলীসহ একাধিক স্থান, নলবিলা বনবিটের বার আউলিয়া নগর, কৈয়ারবিলের ইসলাম নগর, নলবিলা, ফাঁসিয়াখালী বনবিটের উচিতার বিল, নয়াপাড়া, মুসলিম নগর, ফাঁসিয়াখালী, ছাইরাখালী, রিংভং, ছগিরশাহ কাটা, ডুলাহাজারা বনবিটের মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, সোয়াজনিয়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও ফুছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী ইউনিয়ন খুটাখালীর সেগুন বাগিচা, শিয়াপাড়াসহ অসংখ্য স্থানে এবং মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনভূমি যেন দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারী বলেন, ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সাথে স্থানীয়ভাবে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী নেতারাই এসব সংরক্ষিত বনভূমি দখলে নিয়ে সেখানে প্লট আকারে বিভিন্ন উপজেলার মানুষকে বিক্রির মাধ্যমে বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেখানে বনবিভাগের কর্মীরা গেলেই শুরু হয় ধাওয়া দেওয়ার মতো ঘটনা। তাই জান বাঁচানোর তাগিদে দখলদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি তেমন কোন সংঘাত–সংঘর্ষে জড়াতে চান না তারা। শুধুমাত্র গত একমাসেই এসব বনবিটের অন্তত কয়েশ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলে নিয়ে সেখানকার গাছপালা কেটে সাবাড়ের পর অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এই অবস্থায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক বন আইনে মামলা দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই বনবিভাগের।

সরজমিন আরও দেখা গেছে– চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশের উত্তর হারবাং, হারবাং, বরইতলী, বানিয়ারছড়া, নলবিলা, ইসলাম নগর, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, মেদাকচ্ছপিয়া, খুটাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দুই পাশে সংরক্ষিত বনভূমির সমতল স্থানে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে একের পর বসতঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মুরগির খামারসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট বনবিট কার্যালয়ের একেবারে কাছেই প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে– সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ হয়ে এবং মাসোয়ারার চুক্তিতে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও মালুমঘাট এলাকার সচেতন একাধিক লোকজন অভিযোগ করেছেন– কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মালুমঘাট খ্রিস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে দখলদারিত্ব চলছে। ডুলাহাজারায় রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাদার ট্রি (গর্জন) বাগান ও সামাজিক বনায়ন এলাকার বনভূমিতে বেশ কিছুদিন ধরে দখলদারিত্ব চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন বসতি, মুরগির খামার ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে গেছে সংরক্ষিত বনভূমি।

ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আমিন বলেন, কোথাও বনভূমি দখলের খবর পেলেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযান শেষে চলে আসার পর একই স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা চলছে। তবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটসহ পাঁচটি বিটের যেখানে সংরক্ষিত বনভূমি দখলের খবর পাওয়া গেছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলাও দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। সম্প্রতি ডুলাহাজারায় অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন বলেন, যেসব বিষয়ে অভিযোগ আসে সেসব বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো ভূমিদস্যু, বনদস্যু, বালুখেকো বনভূমি জবর–দখলকারীর সাথে বনবিভাগের কারো সাথে কোনো প্রকার আতাঁত কিংবা অবৈধ লেনদেন প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জনবল সংকটও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষার ক্ষেত্রে।




মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে “মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট” অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারত্ব থেকে সরে যান এবং বাদী শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি শুরু করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টায মো. রাসেল চৌধুরীর (সাবেক যুবলীগ নেতা) নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা), শাহাব উদ্দিন ও আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবিকৃত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।

হামলায় বাধা দিলে তারা মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থل থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল (মূল্য ৪৫,০০০ টাকা), একটি অপো মোবাইল (মূল্য ৩৫,০০০ টাকা), নগদ ৭৫,০০০ টাকা এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি (মূল্য ১,০৭,০০০ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বিতীয় দফায় পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং হুমকি দেয় যে চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৩টি দাবি জানানো হয়:

  • এজাহারভুক্ত প্রধান বিবাদী মো. রাসেল চৌধুরী ও শিশির স্বপন চাকমাসহ সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

  • জোরপূর্বক দখলকৃত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা।

  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের সহযোগীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), শিশির স্বপন চাকমা (৫০) ও সঞ্জিতা চাকমাসহ (৪৫) ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় (ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযানকালে একটি সন্দেহজনক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি: কামাল উদ্দিন (৩০), পিতা: মৃত জাহেদ হোসেন, ঠিকানা: ক্যাম্প-২/ইস্ট, ব্লক-বি, এফসিএম-১৪১৯৪৬, উখিয়া, কুতুপালং, কক্সবাজার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের তল্লাশিতে তিনি আটক হন।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুইমারা রিজিয়নের সার্বিক সহায়তায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাসব্যাপী যৌথ চিকিৎসাসেবা ও বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আজ সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী, গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সব জোন কমান্ডার এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধান অতিথি চারজন ব্যবসায়ীকে নতুন তৈরি দোকানঘর হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক রোগীকে দোকানসামগ্রী ও চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার প্রসারে এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার প্রয়াসে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এলাকার প্রায় ১,২০০ জন সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সর্বাত্মক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।