চকরিয়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

চকরিয়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলার বারো আউলিয়া নগর সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকার পর অবশেষে সংস্কারের আওতায় এলেও, নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার ও স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের ইচ্ছামতো কাজের মান কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইট-বালি ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলা, নামমাত্র সিমেন্ট প্রয়োগ, এবং গাইডওয়ালে প্রয়োজনীয় প্রলেপ না দেওয়ায় কাজটি টেকসই হবে না। তাদের আশঙ্কা, বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতেই সরকারের ব্যয় করা ২ কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়বে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে এলাকার সচেতন নাগরিকরা কাজের স্থলে গিয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সড়কটি সংস্কার হলেও কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ঠিকাদার ও সিন্ডিকেটের অব্যবস্থাপনায় জনস্বার্থের বড় ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না। 

প্রতিবাদে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ ঘোষণা করেন এবং দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা জানান, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই প্রকল্পের অর্থ কাদায় মিশে যাবে এবং ভোগান্তি পোহাতে হবে হাজারো পথচারীকে। 

সংস্কারকাজটি ডেলটা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৯ হাজার টাকা বাজেটে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। 

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ মো. কাশেম বলেন, এটি কাজ নিয়ে দুই পক্ষের ব্যবসায়িক বিরোধ। আমাদের কাজে কোনো অনিয়ম নেই। 

চকরিয়া উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। কিছু টুকটাক সমস্যা ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সাংবাদিককে ফোনে বলেন, আপনারা কাজের অনিয়ম দেখলে সংবাদ করে দেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।