চকরিয়ায় ৯ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় ৯ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম

চকরিয়ায় ৯ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী–পশ্চিম বড় ভেওলা–ডেমুশিয়া–কোনাখালী–বাগগুজারা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৯ কোটি ১২ লাখ টাকার এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং পুরোনো ঢালাই অপসারণ না করে তার ওপর নতুন প্রলেপ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলজিইডির রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরসিআইপি)–এর আওতায় চকরিয়া উপজেলার ৫ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ১২ লাখ ৮ হাজার ৬০৫ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৫ টাকা।

প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার হিসেবে রয়েছেন বান্দরবান সদর এলাকার ইউ.টি. মং। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে চকরিয়ার ঠিকাদার সেলিম রেজা পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নদী বা অনুমোদিত উৎসের মানসম্মত বালুর পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা লবণাক্ত ও কালো কাচারা বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত কংক্রিট ঢালাই অপসারণ না করে তার ওপর পাতলা নতুন স্তর বসিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এভাবে কাজ সম্পন্ন হলে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জনগণের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

এলাকাবাসী জানান, সরকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও নিম্নমানের সামগ্রী ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তাঁরা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং দুদকের কাছে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না এবং তদারককারী সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

সহকারী প্রকৌশলী মিরাজ উদ্দিন বলেন, কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। কোথায় কী কাজ হচ্ছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সেলিম রেজা বলেন, কালো বালুগুলো পরে সরিয়ে ফেলা হবে। আপাতত সেগুলো সেখানে রাখা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।