চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের ডিএফও দুদকের নজরে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের ডিএফও দুদকের নজরে

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের ডিএফও দুদকের নজরে
ছবি সংগৃহীত।


# পদায়নে কোটি টাকার ঘুষ, বনভূমি বিপন্ন
# সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, স্থানীয় বনভূমি দখল”
# ডিএফওর মাসিক মাসেহারা নেওয়ার অভিযোগ

বন অধিদপ্তরের দেড় হাজার কোটি টাকার ‘সুফল’ প্রকল্পে দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পে নয়ছয়, ভুয়া কাগজে অর্থ উত্তোলন, বদলি বাণিজ্যসহ নানা অসংগতির নথিপত্র জব্দ করেছে সংস্থাটি। দুদক বলছে, নথিপত্র বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
জানা যায়, দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে সরকারি বনজ সম্পদ উন্নয়নে ২০১৮ সালে ‘টেকসই বন ও জীবিকা’ শীর্ষক ‘সুফল’ প্রকল্প গ্রহণ করে বন অধিদপ্তর। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বন মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে পদে পদে ঘটে অনিয়ম। সুফল প্রকল্প, বনায়ন প্রকল্প কিংবা রাজস্ব খাতের বরাদ্দের টাকা কাগজকলমে কাজ দেখিয়ে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে সিন্ডিকেটে পদায়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের  বরাদ্ধের হিংসভাগ আত্মসাতের অভিযো উঠেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে উপকূলীয় বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি টাকা লোপাট করে তিনি নাকি আমেরিকা পালানোর চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার আবেদন করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের এই কর্মকর্তা উপকূলীয় বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির ৬১ শতাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ খাতে ৫০ কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশই আত্মসাতে হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি ও বেসরকারি একাধিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপকূলীয় বন সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পগুলোর প্রায় ৬১ শতাংশ অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যয়ে হারিয়ে গেছে। কাগজপত্রে বন রক্ষার কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে গাছ নেই, অনেক জায়গায় রোপিত চারা নষ্ট হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম দুনীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে জানান উপকূল বনবিভাগের দুনীতির বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। যে কোন সময় অভিযান চালানো হবে। 
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা ও মিরসরাই অঞ্চলে বনভূমি দখল, অবৈধ কাঠচুরি ও মাছচাষের নামে বন ধ্বংস অব্যাহত রয়েছে। বহু জায়গায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু বনকর্মীর যোগসাজশে এসব দখল ও ধ্বংসের কার্যক্রম চলছে বছরের পর বছর।
বন বিভাগের অভ্যন্তরেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পুরোনো। এক বনকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“উর্ধ্বতন মহলের অনুমতি ছাড়া মাঠপর্যায়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অনেক সময় লিখিত অভিযোগ গেলেও তা নথির স্তূপে চাপা পড়ে থাকে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আজম বলেন,
“বন সংরক্ষণের নামে অনেক প্রকল্প নেওয়া হলেও, টেকসই মনিটরিং বা জবাবদিহি না থাকায় এসব প্রকল্পের প্রভাব মাঠে দেখা যায় না। বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।”
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বন অধিদপ্তরের কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভয়াবহ। এখনো বহু বনভূমি দখল হচ্ছে, কাঠ পাচারকারীরা রাতের অন্ধকারে সক্রিয়। তাদের দাবি, সঠিক তদারকি না থাকলে উপকূলীয় বনভূমি একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলেন, “বন ধ্বংস রোধে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শক্ত আইন প্রয়োগ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ। অন্যথায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল একদিন সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।