চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচন আজ ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেল বিজয় অর্জন করে।

গত ১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট রোশনারা বেগম এবং নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ এডভোকেট মোঃ ইব্রাহিম, এডভোকেট মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, এডভোকেট মোহাম্মদ শাহিন ও এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত তফসিলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী ৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের সময় নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট সেলিনা খানম, সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট আবুল মনসুর শিকদার, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট হোসেন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে এডভোকেট আলী আকবর, এডভোকেট দিদারুল আলম, এডভোকেট দিলদার আহমদ ভূঁইয়া, এডভোকেট ইকবাল হোসেন, এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান, এডভোকেট মোক্তার উদ্দিন, এডভোকেট মোমাইনুল হক, এডভোকেট সাদিয়া খান, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও যথাযথভাবে জমা প্রদান করেন।

অপরদিকে জামাত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১ জন প্রার্থীর পক্ষে সমন্বয়কারী এডভোকেট মোঃ শামসুল আলম একযোগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সভাপতি পদে সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট সাইফুদ্দিন মানিক, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট মিশুক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট আজিমউদ্দিন লাভলু এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন আজাদের পক্ষে আংশিক টাকা চেকের মাধ্যমে এবং বাকি টাকা নগদে জমা দেওয়ার শর্তে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রার্থীগণ নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জমা প্রদান করেন এবংধ্য জন্য চেকের বিপরীতে প্রদেয় ৫৩ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে নগদে জমা দেননি।

পরবর্তীতে ৫ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়া এবং চেক সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

৬ মে আপিলের সুযোগ থাকলেও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিকট কোনো আপিল বা আপত্তি দাখিল করা হয়নি। পরবর্তীতে ৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং ১৮ মে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থী পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এরই মধ্যে ১৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে জামাত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ১৬৬ জন আইনজীবীর স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনের মাধ্যমে বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে তলবী সভার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তলবী সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় তলবী সভার পক্ষে ১৭১ জন এবং বিপক্ষে ২৮৯ জন আইনজীবী ভোট প্রদান করেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়।

এদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীগণ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত ২০ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদের ১টি এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১টিসহ মোট ১২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বমোট ৪৫৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ২১৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থীগণ বিজয় অর্জন করেন। সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন প্যানেল আইনজীবীদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে নির্বাচনে বিজয়ী হন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং ভোটার আইনজীবীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
ছবি সংগৃহীত।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিন দেওয়াসহ এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সব কারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় মারাত্মকভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও শিল্পোদ্যোক্তাদের এই ক্ষতির ধকল বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রয় ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও তাদের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পমালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও তাদের বহন করতে হবে।

শিল্পমালিকদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে– বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা; অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া; মাসে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়া।

চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
 




সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন

সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ সংগঠনের মাঝে ৩০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে উপজেলায় ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ জুলাই সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই চলতি বছর সীতাকুণ্ডে ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করাও জরুরি। চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুল মান্নান, মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম, মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইউম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মো. সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুদ্দোজা, মো. শাহনেওয়াজ, আলহাজ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মো. ওমর ফারুক, মো. আবু তাহের, নুর খান ও বখতেয়ার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ১৭০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন।

চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বিভিন্ন প্রজাতির চারা সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।




নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে এবার পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকার মেয়র গলির ওই বাসভবন ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসভবন লক্ষ্য করে একটি পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওফেলের ছোট ভাই বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি বাড়িতে হামলা নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসার ভেতরে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এ নিয়ে চতুর্থ দফায় হামলার ঘটনা ঘটলো।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল থেকে প্রথম হামলার অভিযোগ ওঠে। এ দুদিন পর ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাট এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান।