চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভুটানের প্রথম ট্রানজিট পণ্যের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভুটানের প্রথম ট্রানজিট পণ্যের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভুটানের প্রথম ট্রানজিট পণ্যের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানের পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম (ট্রায়াল রান) শুরু হয়েছে। প্রথম ট্রানজিট চালানের প্রায় ৬ টন পণ্য বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি শেষে সড়কপথে ভারত হয়ে ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

থাইল্যান্ডের ল্যাম চাবাং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এই পরীক্ষামূলক চালানে রয়েছে চকলেট, শ্যাম্পু, শুকনো পাম ফল ও জুস-জাতীয় পণ্য। এই পণ্যগুলো থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করছে ভুটানের একটি প্রতিষ্ঠান।

ট্রানজিট ফি ও রুট:

ট্রানজিট পথ অনুযায়ী, চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে প্রবেশ করবে। এরপর শিলিগুড়ি হয়ে ভুটানের অভ্যন্তরে পৌঁছাবে। এই পথে বন্দর ও সড়ক ব্যবহার বাবদ বিভিন্ন ফি ও মাশুল পরিশোধ করতে হচ্ছে ভুটানকে। প্রথম চালান থেকে কাস্টমস ও সড়ক পরিবহন বিভাগের টোল-মাশুলসহ মোট ৮৫ হাজার ৬৬৬ টাকা আদায় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার এইচ এম কবির বলেন, "পণ্য বাংলাদেশে ভোগ বা ব্যবহার হবে না, তাই কোনো কাস্টমস ডিউটি নেই। তবে ট্রানশিপমেন্ট, সড়ক ব্যবহার, টোল, ডকুমেন্টেশন ও স্ক্যানিং-সংক্রান্ত চার্জ আদায় করা হয়েছে।" কাস্টমসের চারজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা চালানটি এস্কর্ট করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাবেন।

ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব:

চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলম খান জানান, কাস্টমস-সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার খালাসের কথা থাকলেও শিপিং এজেন্টের পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। আজ চার্জ পরিশোধ করে পণ্য ডেলিভারি নেওয়া হবে।

চুক্তি ও সময়ক্ষেপণ:

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি ও প্রটোকল সই হয় ২০২৩ সালে। দুই বছর পর সেই চুক্তির আওতায় পরীক্ষামূলক পরিবহন শুরু হলো। চালানটি গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও, সরকারি সংস্থাগুলোর ফি ও মাশুল নির্ধারণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়। গত ১৭ নভেম্বর এনবিআরের আদেশ জারি এবং ২০ নভেম্বর সড়ক টোল-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পর শুল্কায়নের কাজ শুরু হয়।

বাণিজ্য ও আয়ের সম্ভাবনা:

ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির জন্য অন্য দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষামূলক পরিবহন সফল হলে নিয়মিত ট্রানজিট চালান শুরু হবে। এতে শুধু দুই দেশের বাণিজ্যই বাড়বে না, বাংলাদেশও ট্রানজিট ফি থেকে আয় বাড়াতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “পণ্য এলে বন্দর নিয়ম অনুযায়ী চার্জ পাবে। যত বেশি পণ্য আসবে, তত বেশি আয় হবে বন্দরের।”




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।