চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে শোকজের লিখিত জবাব দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে।
শোকজের বিষয়টি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লোহাগাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।
জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর শনিবার নাজমুল মোস্তফা আমিন বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় একাধিক গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা ও জনসমাগম সৃষ্টি করা হয়, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির পুনরাবৃত্তি ও আচরণবিধির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে প্রার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন প্রশাসন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের শোভাযাত্রা, বড় গাড়িবহর কিংবা জনদৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব বিধান অমান্য করায় শুধু জরিমানাই নয়, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান—কেউই এর বাইরে নন। আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











