চট্টগ্রামে জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী টিকার সংকট, ভোগান্তিতে আক্রান্তরা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী টিকার সংকট, ভোগান্তিতে আক্রান্তরা

চট্টগ্রামে জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী টিকার সংকট, ভোগান্তিতে আক্রান্তরা
ছবি সংগৃহীত।

ট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কুকুর ও বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। কামড় বা আঁচড়ের পর জলাতঙ্ক রোগ এড়াতে গত পাঁচ বছরে এ জেলায় ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকারি হাসপাতালগুলেতে এ টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে টিকার উচ্চমূল্য মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শহর থেকে গ্রামে, সর্বত্র কুকুরের কামড় ও আঁচড়জনিত ঘটনা বাড়ছে। বিপরীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টিকা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন আক্রান্তরা।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যেখানে ৫ হাজার ১৬৯ জন এমন আক্রান্ত চিকিৎসা নিয়েছেন, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৫২ জন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, কুকুরে কামড়ে আক্রান্ত রোগীর বাড়তি চাপের কারণে গত পাঁচ বছরে সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। অনেক রোগী সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।  

চট্টগ্রাম শহরের বাইরে গ্রামীণ ও উপকূলীয় জনপদে এখন কুকুর-বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে সীতাকুণ্ডে, যেখানে গত পাঁচ বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ থেকে বেড়ে ৩৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৩০৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে বাঁশখালীতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২১৬ থেকে বেড়ে ২ হাজার ২১৬ জনে এবং পটিয়ায় ২২০ থেকে বেড়ে ৩৯২ জনে পৌঁছেছে। উপকূলীয় অঞ্চল সন্দ্বীপেও আক্রান্তের হার ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের পাশাপাশি বিড়াল, শিয়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর মাধ্যমেও জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাসাবাড়িতে পোষা প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর ও বিড়াল পালনের প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত টিকাদান ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে এসব প্রাণীর আক্রমণে মানুষ জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই পোষা প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকরা জানান, অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয় চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করেন। ফলে হাসপাতালে আসতে দেরি হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। একবার জলাতঙ্কের উপসর্গ (ক্লিনিক্যাল লক্ষণ) দেখা দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। অবশ্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতীতে জলাতঙ্কে মৃত্যুর রেকর্ড নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার কুকুর রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে কুকুরের গড় ঘনত্ব ১২ দশমিক ৮৩টি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের উচ্চ ঘনত্বের কারণেই মানুষ ও কুকুরের সংস্পর্শ এবং কামড়ের ঘটনা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ-সাউথইস্ট এশিয়া’-তে ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কুকুরের গণ-টিকাদান ও মানুষের মধ্যে প্রতিষেধক ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও গত ১০ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দাবি করেছেন, দেশে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে।


তবে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর এলাকায় দুটি কুকুরের কামড়ে গত ১ ও ২ জুন নারী ও শিশুসহ ১৯ জন আহত হন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিলেও বাকি ১৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

আক্রান্তদের স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট থাকায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। টিকার প্রয়োজনীয় মজুত না থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের দূরবর্তী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিনে এলাকায় দুটি কুকুরের কামড়ে ১৯ জন আহত হলেও সরকারি হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সংকটের কারণে আহতদের কয়েকজনকে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সরবরাহ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি দেশে রেবিস ভ্যাকসিন বাজারজাত করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিনোভিয়া ফার্মা পিএলসি (সানোফি বাংলাদেশ)-এর ভেরোর‍্যাব, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের র‍্যাবিভ্যাক্স, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের র‍্যাবিক্স-ভিসি এবং নোভার্টিস বাংলাদেশ লিমিটেডের র‍্যাবিপুর। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে ভেরোর‍্যাব অন্যতম দামি ভ্যাকসিন হলেও র‍্যাবিভ্যাক্স ও র‍্যাবিক্স-ভিসি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। এমনকি কিছু অনলাইন ফার্মেসিতে ডিসকাউন্ট মূল্যে ভেরোর‍্যাব প্রায় ৮৩৮ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতেও দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সরবরাহের বাইরেও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে রোগীর চাপ ও প্রয়োজনের ধরন ভিন্ন হওয়ায় ভ্যাকসিনের স্থানীয় চাহিদা একেক এলাকায় একেক রকম হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় জেলার ১৫টি উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়ি ও পটিয়ায় সর্বোচ্চ ৯০টি করে এবং হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় ৭০টি করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও বাঁশখালীতে ৮০টি করে; রাউজান, আনোয়ার ও লোহাগাড়ায় ৬০টি করে; সন্দ্বীপ ও বোয়ালখালীতে ৫০টি এবং কর্ণফুলী উপজেলায় ২০টি ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরজুড়ে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পথকুকুরকে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে। চলতি বছরে ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে ১৫ হাজারের বেশি পথকুকুরকে এই টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি কুকুর নিধনের পরিবর্তে এই আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

নগরের বাইরেও ১৫টি উপজেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি টিমের তত্ত্বাবধানে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম দফার কার্যক্রমের মাধ্যমে গড়ে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে চসিক।  

আনোয়ারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সমরঞ্জন বড়ুয়া  বলেন, ‘পালিত কুকুর ও বিড়ালকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে আমরা মানুষকে উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরকেও ভ্যাকসিনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারিভাবে সব হিংস্র প্রাণীকে টিকার আওতায় আনা গেলে জলাতঙ্ক নির্মূল করা সম্ভব হবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা  বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরকে নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে চসিক কাজ করছে। তবে জনবল ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি ছয় মাস অন্তর এসব কুকুরকে টিকা দেওয়া গেলে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাতঙ্ক নির্মূলে কুকুরের পাশাপাশি বিড়াল, শিয়াল ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীকেও পর্যায়ক্রমে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব নয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বছরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ রেবিস প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেন। একজন রোগীর সাধারণত তিন থেকে চারটি ডোজ প্রয়োজন হয়। ফলে বছরে মোট চাহিদা এক লাখেরও বেশি ডোজে পৌঁছায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বছরে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সেখানে ২৩ হাজার ৯৮৩ জনকে রেবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এই টিকা নিয়েছেন। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেই মাসিক চাহিদা প্রায় দুই হাজার ভায়াল হলেও সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ ভায়াল।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর  বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে সরকার জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলার কয়েকটি উপজেলাতেও এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সব কুকুর এবং জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে এমন প্রাণীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে রোগটি নির্মূল করা সম্ভব।’

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার  বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শতভাগ কুকুরকে না আনতে পারাই আক্রান্ত বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যার উপসর্গ দেখা দিলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটে। তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে চাহিদা পূরণ করা গেলে সরকারি হাসপাতালে যে কেউ যে কোনো সময় ভ্যাকসিন পাবেন। এ নিয়ে হয়রানির কোনো সুযোগ থাকবে না।’

 




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
ছবি সংগৃহীত।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিন দেওয়াসহ এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সব কারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় মারাত্মকভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও শিল্পোদ্যোক্তাদের এই ক্ষতির ধকল বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রয় ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও তাদের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পমালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও তাদের বহন করতে হবে।

শিল্পমালিকদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে– বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা; অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া; মাসে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়া।

চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
 




সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন

সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ সংগঠনের মাঝে ৩০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে উপজেলায় ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ জুলাই সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই চলতি বছর সীতাকুণ্ডে ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করাও জরুরি। চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুল মান্নান, মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম, মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইউম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মো. সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুদ্দোজা, মো. শাহনেওয়াজ, আলহাজ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মো. ওমর ফারুক, মো. আবু তাহের, নুর খান ও বখতেয়ার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ১৭০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন।

চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বিভিন্ন প্রজাতির চারা সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।




নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে এবার পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকার মেয়র গলির ওই বাসভবন ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসভবন লক্ষ্য করে একটি পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওফেলের ছোট ভাই বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি বাড়িতে হামলা নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসার ভেতরে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এ নিয়ে চতুর্থ দফায় হামলার ঘটনা ঘটলো।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল থেকে প্রথম হামলার অভিযোগ ওঠে। এ দুদিন পর ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাট এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান।