চট্টগ্রামে বন্যায় বেড়িবাঁধ-স্লুইসগেট ও নদীতীর ভেঙে ক্ষতি ১৫০ কোটির বেশি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে বন্যায় বেড়িবাঁধ-স্লুইসগেট ও নদীতীর ভেঙে ক্ষতি ১৫০ কোটির বেশি

চট্টগ্রামে বন্যায় বেড়িবাঁধ-স্লুইসগেট ও নদীতীর ভেঙে ক্ষতি ১৫০ কোটির বেশি
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, খাল, স্লুইসগেট ও বিভিন্ন জলকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক স্থানে বাঁধ ভাঙন, নদীতীর ধস এবং বিভিন্ন জলকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলা। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকাও বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতায় ৭৪টি স্থানে প্রায় ২২ কোটি ৯১ লাখ টাকার এবং বিভাগ-২-এর আওতায় ৯৩টি স্থানে প্রায় ৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। দুই বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় ১০২টি স্থানে প্রায় ৮ দশমিক ৫৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্বাসনে প্রায় ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

ফটিকছড়িতে হালদা ও ধুরং নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং বিভিন্ন সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে হালদা, কর্ণফুলী, ইছামতি নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের তীর ভেঙে গেছে এবং বাঁধ ধসে পড়েছে।

আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পোল্ডার, সাঙ্গু ও ডলু নদী এবং বিভিন্ন খালের বাঁধ ও তীররক্ষা স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, খালের পাড় এবং একাধিক স্লুইসগেট ও ফ্ল্যাপগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাইনী ও চেঙ্গী নদীর তীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সন্দ্বীপে কয়েকটি স্লুইসগেট এবং সীতাকুণ্ডে একটি রেগুলেটর স্লুইসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা। মাঠপর্যায়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, নদীতীর ও জলকাঠামো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন করে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো যায়।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বর্তমান সরকার উপকূলীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দি পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আনোয়ারার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় আমাদের বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট ও অন্যান্য জলকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলীরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন। যেসব স্থানে ভাঙন ও ক্ষতি বেশি হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।