চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু হবে, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সব জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা খুব শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার পরিদর্শনে এসেছিলাম। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনগণে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি।

বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কালিমা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি।

তিনি দাবি করে বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি এবং মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করবো। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি তারা সবাই সংকল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের উপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে, এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো এবং পুলিশ আইনানুগভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক কোনো নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই যাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেভাবে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে স্ব স্ব বিভাগ পরিচালিত করবে। তারা সেই সংকল্প আজকে প্রকাশ করেছে। আমি তাদের জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইন শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সেগুলো স্মরণ করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকে দুইটা বিষয়েই আমি অনুশাসন দিয়েছি। আমরা খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ করে ঢাকা থেকে আমরা অভিযান শুরু করবো। আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনে আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো, খুব শিগগিরই।

দ্বিতীয়ত যারা অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, দাগী আসামি। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেটা নির্মোহভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আনবায়াস্ট তালিকা স্ক্রুটিনি (খুঁটিনাটি বা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা) করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো। এই দুইটা বিষয় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়েছি। আশা করি এদেশের সব জনগণ আপনারা সবাই সেটাতে আমরা সহযোগিতা দেবেন এবং সহযোগিতা পাবো। আমরা সেই দিকেই যাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।