টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে কোস্টগার্ডের ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে মামলায় আসামি হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি।

মামলাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন হ্নীলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. আফসার কামাল।

তিনি বলেন, "গত ১১ মে লেদায় কোস্টগার্ডের অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই মামলায় কাউকে না পেয়ে আমাকে এক নম্বর পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। অথচ সেদিন আমি আরেকটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় হাজিরা দিতে কুমিল্লা আদালতে ছিলাম। যার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও আদালতে হাজিরার সাক্ষ্যপ্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।"

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. আফসার কামাল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কুমিল্লায় অবস্থানকালে আমি কীভাবে ইয়াবা পাচার করতে গেলাম?"

একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি ও হয়রানি করতে চাচ্ছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী আফসার কামাল।

তিনি বলেন, "চিহ্নিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সুনাম ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় নেমেছে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমাকে দুটি মাদক মামলায় আসামি বানিয়েছে। আরও নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।"

মো. আফসার কামাল হ্নীলা পূর্ব লেদার বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ইটভাটা, লবণ ব্যবসা ও মুরগির খামার রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে মো. আফসার কামাল বলেন, "ভিত্তিহীন এই মামলায় উখিয়ার শামীম নামে আরেকজনকে ২ নম্বর পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লায় ৪০০টি ইয়াবা উদ্ধার মামলায় আমাকে ও আমার ভাই নেজামকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।"

কোস্টগার্ড সঠিক তথ্য যাচাই না করে মাদকের মামলায় আসামি বানানোকে 'জুলুম' বলে মন্তব্য করেছেন মো. আফসার কামাল। তিনি বলেন, "আমার প্রতি জুলুম করে সমাজের চোখে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে আমিসহ পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।"

সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন ও সচেতন মহলের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। দোষী ব্যক্তি যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান মো. আফসার কামাল।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।