টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন

টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত

টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয়ের প্রথম প্রহরে টেকনাফ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।

দিবস উপলক্ষে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সরকারি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

টেকনাফ উপজেলা প্রসাশন কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে ছিল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির পরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি- বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ এবং শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা প্রদর্শণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণী, সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তোপধ্বনি ও পুসপস্তবক অর্পণ শেষে ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা কমপ্লেক্স আদর্শ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।  

ওসিসির প্রোগ্রাম অফিসার নাশীদুল ইসলাম আল-ফারুকীর পরিচালনায় টেকনাফ আদর্শ বিদ্যাপীঠ মাঠে স্বাগত বক্তব্যে মহান বিজয় দিবসের গৌরবময় প্রভাতে সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ৫৪ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির পথ। সেই চেতনাই আমাদের পথ দেখিয়েছে পরবর্তী প্রতিটি সংকটময় সময়ে। বিজয়ের স্মরণ করি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-এর কথা। সে সময় দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ ন্যায়, গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, এ দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণ এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

২০২৪ সালের সেই আন্দোলন ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই এক আধুনিক প্রকাশ যেখানে অস্ত্র নয়, সচেতনতা; সহিংসতা নয়, নৈতিক শক্তি; এবং ভয় নয়, সাহস ছিল প্রধান হাতিয়ার।

তিনি বলেন, টেকনাফ একটি সীমান্তবর্তী, বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। বিজয় দিবসের এই দিনে আমরা অঙ্গীকার করি। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করব। দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকব। তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও দাযিত্ববোধে গড়ে তুলব এবং টেকনাফকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। পরিশেষে ইউএনও আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী সাহসী মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাঁদের আদর্শ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস, টেকনাফ এজাহার বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়, কমপ্লেক্স আদর্শ কেজি স্কুল, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ প্রেসক্লাবের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের নের্তৃত্বে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সদস্য গিয়াস উদ্দিন ভুলু, জিয়াবুল হক, আমান উল্লাহ কবির প্রমুখ।

এর আগো বিজয়ের প্রহরে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ মডেল থানা, পল্লী বিদ্যুৎ, বন বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, দমদমিয়া যুব কল্যাণ সমিতি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টেকনাফ খাদ্য গুদাম, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ফুলেল  শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।