টেকনাফে ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে 'ড. গাজী কামরুল ইসলাম বৃত্তি' পরীক্ষা সম্পন্ন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে 'ড. গাজী কামরুল ইসলাম বৃত্তি' পরীক্ষা সম্পন্ন

টেকনাফে ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে 'ড. গাজী কামরুল ইসলাম বৃত্তি' পরীক্ষা সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

টেকনাফের সর্ববৃহৎ হ্নীলা ইউনিয়নের রঙিখালীতে 'ড. গাজী কামরুল ইসলাম বৃত্তি' পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন 'রঙিখালী স্টুডেন্ট ফোরাম'-এর আয়োজনে উক্ত বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। টেকনাফ উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ের (স্কুল ও মাদ্রাসা) চতুর্থ শ্রেণি এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণি সমমানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় নির্দিষ্ট কারিকুলামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রঙিখালী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৫টি কক্ষে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণির ১৮৫ জন স্কুল শিক্ষার্থী ও ২০৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং সপ্তম শ্রেণির ১৩৯ জন স্কুল শিক্ষার্থী ও ১৪৯ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উপজেলার মোট ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ৩৮ জন। এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফলাফল শনিবার রাতেই প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাস্টার মো. হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্র সচিব মাস্টার মনছুর আলম জানান, অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা শেষ হয়েছে। রঙিখালী স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি শাখাওয়াত হোছাইন ও সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন সোহেল বলেন, ২০১৬ সাল থেকে এই সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালে ২ নং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, রঙিখালী স্টুডেন্ট ফোরাম এই অঞ্চলের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে অতুলনীয় অবদান রাখছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় টেকনাফ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য জামাল হোসাইন, রঙিখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্য জামাল সাদেক, সাংবাদিক ছৈয়দ আলম, আমান উল্লাহ কবির, নাছির উদ্দিন রাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্রনেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ, দেলোয়ার হোসেন রাজু ও ৫০ জন কক্ষ পরিদর্শক।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।