টেন্ডার সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ আমানুর: দুই দশক ধরে সদর দখলে উপসহকারী প্রকৌশলী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

টেন্ডার সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ আমানুর: দুই দশক ধরে সদর দখলে উপসহকারী প্রকৌশলী

টেন্ডার সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ আমানুর: দুই দশক ধরে সদর দখলে উপসহকারী প্রকৌশলী
ছবি সংগৃহীত।

২০১৪ সালের ১ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন আমানুর রহমান। যোগদানের পর থেকে আজ পর্যন্ত একই পদে, একই চেয়ারে বহাল রয়েছেন তিনি। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জেলা পরিষদেও উপসহকারী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বান্দরবান জেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান না। সাধারণত তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং দুই দফা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো সময়জুড়েই রহস্যজনকভাবে বদলি এড়িয়ে গেছেন আমানুর রহমান। প্রশাসনিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির বলয়ে থেকে বছরের পর বছর তিনি জেলা সদর আঁকড়ে রেখেছেন?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তাঁর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ই-জিপি (e-GP) টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, গোপন তথ্য ফাঁস এবং পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দিতে নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, শাহজাহান মিয়া (মিয়া কন্ট্রাক্টর), মোহাম্মদ আলী, আজিজুর রহমানসহ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ই-জিপি টেন্ডার জমা দেওয়া থেকে শুরু করে দরপত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি সহযোগিতাও তিনি দিতেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এলজিইডির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী হয়েও নিজের দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ই-জিপি তথ্য বাইরে পাচার এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনলাইনে টেন্ডার ফরম পূরণে সহযোগিতার বিষয়টি অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই জানেন। কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকায় অফিসের ভেতরে-বাইরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন আমানুর রহমান। অনেক ঠিকাদার দাবি করেন, তাঁর ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমানুর রহমান স্বীকার করেন যে তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলা সদরে কর্মরত আছেন। তবে কখনও তাঁকে কোনো দুর্গম উপজেলায় বদলি করা হয়নি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—যেখানে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি হতে হয়, সেখানে একজন কর্মকর্তা কীভাবে দুই দশক ধরে একই জেলায় বহাল থাকেন? বদলি নীতিমালা কি শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? নাকি প্রভাবশালীদের জন্য রয়েছে ভিন্ন নিয়ম?

দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে অবস্থান, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য এবং টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে পুরো বান্দরবানে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।