ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক
ছবি সংগৃহীত।

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট ব্যয় পর্যালোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে দেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জানানো হয়েছে যে, ১২ মাসের গড় হিসেবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের জুনের পর এই প্রথম গত নভেম্বর ২০২৫-এ ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চ ২০২৩-এ ছিল ৯.৩৩ শতাংশ। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে আগামী জুন ২০২৬ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে মজুরি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কথা উল্লেখ করা হয়। বিগত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান ছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশ হলেও মজুরি প্রবৃদ্ধি ৮.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৯.০২ ও ৭.০৪ শতাংশ। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির পথে রয়েছে।

কৃষি খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয় যে, যথাযথ প্রণোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবং ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন ১৬০.৯৫ লাখ টনে পৌঁছেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাকি ফসল কাটা সম্পন্ন হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আউশ ধানের উৎপাদনও গত অর্থবছরের তুলনায় ৭.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়েও বৈঠকে ইতিবাচক চিত্র উঠে আসে। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল মাত্র ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। প্রবাসী আয়ের গতি বৃদ্ধি ও সুদের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ায় এই রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে চলতি হিসাব ঋণাত্মক থাকলেও আর্থিক সুব্যবস্থাপনার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এটি মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামান্য ঘাটতিতে নেমে এসেছে।

প্রবাসী আয় ও আমদানির ক্ষেত্রেও গতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৫ লাখ কর্মীর বৈদেশিক নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎপাদনশীল করতে আমদানির বিধিনিষেধ অপসারণ করায় আমদানি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি ২৭.৭ শতাংশ এবং শিল্পজাত কাঁচামালের ক্ষেত্রে এই প্রবৃদ্ধি ৪০.৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রমাণ দেয়।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।