তিনদিন পর হালদা নদীতে নিখোঁজ সাব্বিরের লাশ উদ্ধার

রাউজান থেকে হাটহাজারী এসে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়ে হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া সাব্বিরের (২১) লাশ অবশেষে তিনদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালের দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়ন ছায়ার চর নামক এলাকা থেকে হালদা নদীর অস্থায়ী নৌ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা লাশটি রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরমস্থ মানাউল্লাহ চৌ.বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলের।
জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রয়ারী শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডস্থ রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় ভিকটিম সাব্বির তার ৮/১০ জন বন্ধুসহ নৌকা যোগে মাদার্শা বেরিবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় হযরত আবদুল করিম শাহ (রা:) প্রকাশ পোয়া ফকিরের বার্ষিক ওরশ শরীফ থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় রামদাস মুন্সির হাট খেয়াঘাটে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের বহনকারী নৌকা আটকিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের উপর হামলায় চালায়। এসময় সাব্বিরসহ নৌকায় থাকা কয়েকজন আত্নরক্ষায় নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ হয় সাব্বির। ঘটনা জানাজানি হলে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ, রামদাশহাট নৌ পুলিশ ও হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাব্বিরকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অবশেষে নিখোঁজের তিনদিন পর নদীতে স্থানীয়রা উল্লেখিত স্থানে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে হালদা নদীর তীরস্থ রামদাস মুন্সির হাটের অস্থায়ী নৌ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন।
ঘটনার সময় সাথে থাকা ভিকটিম সাব্বিরের বন্ধু মারুফ জানায়, হামলার সময় নৌকা থেকে সেও লাফ দেয়, তাদের সাথে থাকা অন্যরা সাতার কেটে কুলে উঠতে পারলেও সাব্বির উঠতে পারিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দুই গ্রুপের পূর্বের দ্বন্ধের কারনে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভিকটিম সাব্বিরের আপন চাচাতো ভাই মো.টিপু মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা করবো। কারা এ হামলা চালিয়েছে তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বুঝা যাবে। তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীও জানান তিনি।
রামদাশ মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই রমজান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওইদিন রাতে খবর পাওয়ার পর থেকে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হাসান বেলা ১২ টার দিকে জানান, বিষয়টি নৌপুলিশ দেখছেন তবে মডেল থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে গেছেন। আর এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।












